মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তালিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

হাতছানি দিয়ে ডাকে ‘মসজিদে কুবা’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বেলায়েত হুসাইন।।

বছরের এই সময়ে মুসল্লি ও জেয়ারতপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত থাকে মদিনায় অবস্থিত ইসলামের সর্বপ্রথম মসজিদ ‘মসজিদে কুবা’। এ সময়ে মদিনার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র এ মসজিদ জেয়ারতে আসেন।

মদিনায় হিজরতের পরপরই মহানবী সা. নিজ হাতে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। ফলে আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত অনুসরণে এ মৌসুম ছাড়াও সারা বছর মসজিদটি জেয়ারতে মুসল্লিদের সমাগম থাকে চোখে পড়ার মতো। জীবনে একবার হলেও এ মসজিদে দু‘চার রাকাত নামাজ আদায়, একটু তাসবিহ-তাহলিল এবং ইবাদতের প্রতি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর লালিত স্বপ্ন থাকে।

এজন্য হজ কিংবা ওমরাহর কোন বিধি-বিধান মসজিদে কুবার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও সারা বছরই তীর্থযাত্রীদের সমাগমে রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত এ মসজিদ মুখরিত থাকে। শনিবার মুসল্লিদের সমাগম বৃদ্ধি পায়। কারণ, রাসুল সা. প্রতি শনিবারে পায়ে হেঁটে কিংবা আরোহিত অবস্থায় মসজিদে কুবা জেয়ারতে আসতেন।

কিন্তু এ বছরের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবেও বাইরে চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মসজিদ ও অন্যসব ইবাদতের জায়গাগুলোতেও মুসল্লিরা সমবেত হতে পারেন না। স্বস্থ্যবিধি অনুসরণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লিকে মসজিদগুলোর জামাত অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেয়া হয়।

এতে মসজিদের আগের সেই প্রাণবন্ত চিত্র দেখা যায় না। মসজিদে কুবায়ও প্রতি ওয়াক্তে অল্প কয়েকজন মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। প্রলয়ংকারী কি এক মহামারি মসজিদকেও বিরান করে ফেলেছে। এখানে আগের সেই সজীবতা এখন আর বাকি নেই। কবে আল্লাহর এই পরিক্ষা শেষ হবে, আর আমরা আবার ফিরতে পারবো দুনিয়ার সবচেয়ে পব্ত্রিতম স্থান মসজিদে? জানি না। তবে অনুভব করি-দুনিয়ার সব মসজিদ যেন আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ডাকছে মসজিদে কুবা-ও।

প্রসঙ্গত, হজরত মুহাম্মদ সা. হিজরতের উদ্দেশ্যে মদিনায় আগমন করে প্রথমে শহরের প্রবেশদ্বারে কুবা নামক স্থানে নামাজ পড়েন। পরে এখানে মসজিদ গড়ে তোলেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ঘর থেকে অজু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ পড়লে একটি ওমরাহর সমান সওয়াব পাওয়া যায়। তা ছাড়া ধারণা করা হয়, সুরা তওবার ১০৮ নং আয়াতে বলা মসজিদটি মূলত মসজিদে কুবা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কখনো সেখানে দাড়াবেন না, তবে যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে, সেটিই আপনার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন’।

সূত্র: আল আরাবিয়া ও অন্যান্য আরবি একাধিক গণমাধ্যম

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ