শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৮ রজব ১৪৪৭


ফরিদপুরের সালথায় আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ফরিদপুরের সালথায় আহলে হাদিস মতাদর্শের একটি মাদ্রাসায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় স্থানীয় কওমী মাদরাসার আলেম-ওলামাদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা ওলামা মাশয়েখ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলা সদরের কাউলিকান্দা দারুল উলুম আইডিয়াল মাদরাসার সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণ বঙ্গের কওমী আলেমদের বর্ষীয়ান নেতা ও সালথার পুরুরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা জহুরুল হকের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাফেজ মোস্তফা কামাল। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তথাকথিত আহলে হাদিসের একটি গ্রুপ এক বছর ধরে সালথা উপজেলার কামদিয়া গ্রামে ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। যা ইসলামের মৌলিক বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া কওমীপন্থীদেরকে কটাক্ষ করে অশালীন বক্তব্য দিয়ে আসছে তারা।

যা নিরসনের জন্য ইউএনও ও ওসি’র মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু সমাধান না করে তারা আরও তৎপর হয়ে উঠে। এরপর বুধবার সকালে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশের নির্ধারিত সময়ে ইউএনও আমাদেরকে তার কার্যালয় ডাকেন। আমরা সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকি। এর মধ্যে জানতে পারি কওমী মাদরাসার ছাত্রদের উপর আহলে হাদিসের অনুসারীরা হামলা চালিয়ে মারধর করছে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় তৌহিদী জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের আস্তানা ভাংচুর করে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় আলেমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য কিছু গণমাধ্যম ঢালাওভাবে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে প্রচার করছে। তাই আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই পূর্বক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আশা করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা আকরাম আলী, মাওলানা নিজামুদ্দীন, মুফতী মফিজুর রহমান, মাওলানা ঝিনাতুল ইসলাম প্রমূখ।

এর আগে আহলে হাদিসের মসজিদ ভাঙ্গার বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। তাদের মসজিদ ভাঙার যে দাবিটি উঠে তা সম্পূর্ন অসত্য বলেও জানান মুফতী ইমরান হুসাইন। তিনি বলেন,‘ সেখানে কোন মসজিদ ছিলো না, শুধু ছোট্ট ঘরের মতো একটি আস্তানা ছিলো।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আলেম জানান, ‘মূলত এলাকার শ্রদ্ধেয় আলেমদের কাফের ঘোষণা, কওমি মাদরাসায় জাকাত দিলে না-জায়েজের ফতোয়া প্রদান এবং সবশেষ ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীকে আহত করার বিষয়টিই উপস্থিত জনতা মানতে পারেনি।

সালথার ইউএনও মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, ‘দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাতে আহলে হাদিস মাদরাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

হামলার ঘটনা শোনার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘ওই মাদরাসায় যে ৩৫ জন নিবাসী ছিল তাদের সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারা এই হামলায় জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও ঘটনার সুষ্টু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ