শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৮ রজব ১৪৪৭


এবারের ইজতেমা নিয়ে সংশয়!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মোস্তফা ওয়াদুদ, নিউজরুম এডিটর>

বিশ্ব ইজতেমা। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত। তাবলিগের সবচেয়ে বড় জমায়েত। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। তবে গত কয়েকবছর ইজতেমা মাঠে লোকের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় দুই পর্বে হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। গতবছর হয়েছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। এ বছর ৫৬তম ইজতেমা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দূরত্ব বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা। এমন পরিস্থিতিতে এবারের  তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে তাবলিগের মুরব্বিদের মাঝে অনুষ্ঠিতব্য ইজতেমা নিয়ে মিশ্র মতামত পাওয়া গেছে। হওয়া না হওয়া নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তবে করোনা পরিস্থিতিই বলে দিবে এবারের ইজতেমার ভবিষ্যত। পূর্ব ঘোষিত সময়ে ইজতেমা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

বিশ্ব ইজতেমা মাঠের জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে কি হবে না, সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট এখনো চালু হয়নি। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দেশের ভেতরেও কোথাও কোনো ধরনের সমাবেশ পালিত হচ্ছে না। বড় ধরনের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে সরকার মহলের। সে হিসেবে আমরা দেশের পরিস্থিতির বিবেচনা করে নিশ্চিত করে কোনো কিছু বলতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘আর গতবছর আমাদের ঘোষিত ইজতেমার প্রথম পর্বের তারিখ ছিলো ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২১। দ্বিতীয় পর্ব ছিলো ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২১। যদি ততদিন পর্যন্ত পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে যায়। সরকার ইজতেমা করার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা ইজতেমার আয়োজন করবো।’

ইজতেমার আয়োজনে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার যখন অনুমতি দিবে তখন মাত্র ১৫ দিনের ভেতরে প্রস্তুতি নিয়ে ইজতেমার মাঠ তৈরি করে নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। সে হিসেবে আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে।’

বিশ্ব ইজতেমার পূর্বে অনুষ্ঠিত শুরায়ী নেজামের জোড় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বেড়াজালে আঁটকে আছে জোড়ও। তবে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জোড় নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। জোড় হবে ইনশাআল্লাহ। জোড়টি হয়তো টঙ্গিতে হবে না। কয়েকটি জেলায় মসজিদে মসজিদে জোড়গুলো অনুষ্ঠিত হবে। কেননা মসজিদে এসব প্রোগ্রামের ব্যাপারে সরকার মহল থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যেটা খোলা মাঠে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খোলা মাঠে কোনো ধরনের ইজতেমা বা জোড় করবো না।’

জানা গেছে, শুরায়ী নেজামের ৫দিনের জোড় সারাদেশের মোট ৩০ টি পয়েন্টে বিভিন্ন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে নিজামুদ্দীনপন্থীর জিম্মাদার ও মারকাজুল উলুম আশ-শরীয়াহ সাভারের প্রিন্সিপাল মাওলানা জিয়া বিন কাসিমে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সরকার যখন আমাদের ডেট কনফার্ম করবে। তখনি আমরা ইজতেমা করবো।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণে আমরা ইতিমধ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সব ঠিক থাকলে এ বছর বিশ্ব ইজতেমায় করোনা ভাইরাসের কোনো প্রভাব পড়বে না।’

জানা যায়, এবছর বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তন্মেধ্যে সোমালিয়া, আফগানিস্থান ও সুদান অন্যতম।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ