আবদুল্লাহ তামিম।।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া আরবিয়া নছিরুল ইসলাম নাজিরহাট বড় মাদরাসার শূরা কমিটির বৈঠক এবং মাদরাসার পরিচালক পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ফটিকছড়ির এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ছাত্রদেরকে শান্ত্ব করে বক্তব্যে বলেন, মাদরাসার মুরব্বিরা চাইলে কালই শূরা বৈঠক করতে পারবেন। সব ধরণের সহায়তা নিরাপত্তা সরকার দিবে।
আজ শনিবার দুপুরে মাদরাসার মাঠে সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করলে ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আগামী ২৮ অক্টোবরের শূরা কমিটির বৈঠক এবং মাদরাসার উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম মাওলানা সলিমুল্লাহ এলাকাবাসী ও ছাত্র-শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন উপস্থিত ছাত্রদের একাংশ মাওলানা সলিমুল্লাহকে ‘মুহতামিম মানি না, শূরা চাই, শূরা চাই ‘ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রদের একটি অংশ স্লোগানধারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপরই মাদরাসায় র্যাব-পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাত্র দাবি করে, সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে মাদরাসার কোনো ছাত্র শিক্ষকই কিছু জানতো না।
ছাত্রদের দাবি, অবৈধভাবে মুহতামিম পদ দখল করে রাখা মাওলানা সলিমুল্লাহকে মাদরাসা থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শূরা কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে পরিচালক নিয়োগ দেয়া
এদিক পরিস্থিতি শান্ত্ব করতে মাদরাসায় উপস্থিত হোন ফটিকছড়ির এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি ছাত্রদেরকে শান্ত্ব করে বক্তব্যে বলেন, অচিরেই মজলিসে শূরা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মুহতামিমের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হোন সেটাই সবাই মেনে নিবেন। আমি বলবো, আল্লামা আহমদ শফী রহ. ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। তার পরে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিকল্প কেউ নেই। সমগ্র বাংলাদেশের সব মাদরাসায় তার পিছনে কাতারবন্দি হয়ে গেছে। এখানে উপস্থিত আছেন আল্লামা বাবুনগরীর মুরব্বি আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বক্তব্য দিবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। সবাইকে এখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। এখানে সুষ্ঠুভাবে শুরার সদস্য নির্বাচিত হবে। আমি নির্দেশ দিচ্ছি যারা ছাত্রদের উপর হামলা করেছে, তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করবে। আগামীকালই ইনশাআল্লাহ শূরা নির্বাচিত হবে। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি থাকবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন আল-জামিয়াতুল আরবিয়া নছিরুল ইসলামের (নাজিরহাট বড় মাদরাসা) পরিচালক আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইদ্রিস ইন্তেকাল করলে সহকারী পরিচালক মুফতি হাবিবুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব দেয় শূরা কমিটি। পরবর্তিতে মাদরাসার শূরা সদস্য হাটহাজারী বড় মাদরাসার সাবেক পরিচালক মরহুম আল্লামা আহমদ শফী মাওলানা সলিমুল্লাহকে ওই মাদরাসার মুহতামিম ঘোষণা করলে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মুফতি হাবিবুর রহমানসহ শূরার অন্য সদস্যরা তা মানতে নারাজ ছিলেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসা জুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে আগামী ২৮ অক্টোবর শূরা কমিটির বৈঠক আহ্বান করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচাল মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী।
-এটি