সুফিয়ান ফারাবী।।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>
পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসাগুলোতে শিক্ষারত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি। নিয়মতান্ত্রিক পড়াশোনা ও আত্মশুদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে অধিকাংশ মাদ্রাসার কার্যক্রম। তালিম ও তরবিয়তের বাইরে শরীরচর্চা ও খেলাধুলাকে অধিকাংশ মাদ্রাসায় এখনো অন্যায় হিসেবে বিবেচ্য।
এদিকে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের দেহ ও মন সতেজ রাখতে প্রতিনিয়ত খেলাধুলা অথবা শরীর চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। এতে করে মানুষের দুশ্চিন্তা হ্রাস পায়। অন্যদিকে এর মাধ্যমে শরীরের ব্যায়ামও হয়। স্কুল-কলেজ ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের চেয়ে মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও শরীরচর্চা আরো বেশি জরুরি বলে মনে করেন চট্টগ্রাম ওমরগণি কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন।
তার মতে, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও শরীরচর্চা স্কুল-কলেজের তুলনায় অধিক জরুরি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা গ্রামের বাড়ী থেকে পায়ে হেঁটে অথবা সাইকেল চালিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ করতে আসে। ফলে তাদের নিয়মিত কিছুটা হলেও ব্যায়াম হয়ে যায়। পক্ষান্তরে মাদরাসা শিক্ষার্থীগণ বোর্ডিংয়ে অবস্থান করে ক্লাশ করে থাকে। শরীরচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ তাদের থাকে না। আমি মনে করি, খেলাধুলার মাধ্যমে তা পুরণ করার সুযোগ আছে।
ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বহু মাদরাসায় আছরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খেলাধুলার অনুমতি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ গ্রহণ করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করে তাদের ঘুম ভালো হয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, ক্লান্তি দুর হয়, ক্ষুধামন্দার অবসান ঘটে এবং লেখাপড়াতেও মন বসে প্রফুল্লতার সাথে।
মাদরাসাগুলোতে খেলাধুলার প্রতি এ ধরনের কড়াকড়ি ভালো চোখে দেখছেন না তরুণ আলেম সমাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাওলানা হুসাইনুল বান্না মনে করেন, ‘কওমি অঙ্গনে নানা পরিবর্তন হলেও এখনো পর্যন্ত খেলাধুলা বা শরীরচর্চার পরিবেশ তৈরি হয়নি। এর পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছি আমরা। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ উপহার না দিয়ে বরং খেলাধুলার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি। এতে করে কখনো কখনো শিক্ষার্থীরা মানসিক এবং দৌহিক নানা ধরনের অসুস্থতায় ভোগে। অতি শিগগিরই আমাদের এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিটি বিদ্যালয় প্à