সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২০ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তলিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

করোনামুক্তদের প্লাজমা দানের আহ্বান ডা. জাফরুল্লাহর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: করোনামুক্তদের প্লাজমা দানের আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, প্লাজমা দান ও সংগ্রহের জন্য গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ‘গণস্বাস্থ্য প্লাজমা সেন্টার’ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। করোনামুক্ত ব্যক্তিরা যেকোনো সময় সেখানে গিয়ে প্লাজমা দান করতে পারবেন এবং প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের আক্রান্ত যাদের প্লাজমা প্রয়োজন তারাও যোগাযোগ করে সংগ্রহ করতে পারবেন।

শুক্রবার গণমাধ্যমকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের প্লাজমা চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক প্লাজমা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য সেখানে একটি অত্যাধুনিক মেশিন বসানো হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিদেশ থেকে আরো একটি মেশিন আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে আরো ৫০ লাখ টাকা খরচ হবে।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে এটি এখন প্রমাণিত যে, প্লাজমা গ্রহণে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি নতুন জীবন লাভ করেন। বাংলাদেশে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ তিনি নিজে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি তিন বার প্লাজমা নিয়েছেন। এতে তিনি সুস্থ হয়েছেন।

‘আগে অনেক দেশের বিজ্ঞানী করোনা আক্রান্তদের প্লাজমা চিকিৎসা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু দেশে করোনা আক্রান্তদের এ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অথচ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা শুরু থেকেই এই চিকিৎসার কথা বলে আসছেন। এতে প্রমাণ হয় যে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিজ্ঞানীরা অনেক দিক দিয়ে অন্যদের থেকে এগিয়ে আছেন।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এ পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের রক্তের প্লাজমা প্রয়োজন। কিন্তু আশানুরূপভাবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দেশে করোনাজয়ী ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেনো যেকোনো সময় এসে গণস্বাস্থ্যের প্লাজমা সেন্টারে রক্তদান করে যান। কারণ তাদের দেওয়া এক ব্যাগ প্লাজমা হয়তো একজন আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে পারবে।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা যাতে নিজেদের সুবিধা মতো সময়ে এসে প্লাজমা দিয়ে যেতে পারেন এ জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্লাজমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত যাদের প্লাজমা প্রয়োজন তারাও যেকোনো সময় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এসে প্লাজমা নিতে পারবেন। এ বিষয়ে রক্তদানের মতোই সকলকে উৎসাহিত করা দরকার। দেশের মানুষের মধ্যে আরো সাড়া জাগানো দরকার।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর নিজ উদ্যোগে এসে গণস্বাস্থ্য প্লাজমা সেন্টারে প্লাজমা দান করে গেছেন। এ জন্য তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। সরকারের যেসব বড় কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তারাও যেনো এখানে এসে প্লাজমা দান করে যান এ আহ্বান জানাই। কারণ তাদের দেখে অন্যরা উৎসাহিত হবে। মনে রাখতে হবে, এ ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য যেমন একটি কার্যকর প্রতিষেধকের প্রয়োজন, এই মুহূর্তে তার থেকেও বেশি প্রয়োজন প্লাজমা। কারণ এটি রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ