আওয়ার ইসলাম: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর হজ পালিত হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সৌদি আরব। তবে এরই মধ্যে বিশ্বের সাতটি দেশ এ বছর হজে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
গতকাল রোববার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি দেশ চলতি বছরের হজযাত্রা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। সর্ব প্রথম এই ঘোষণা দেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া। একই কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনাই। আর সর্বশেষ এই কথা জানিয়েছে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
হজ পালনে নাগরিকদের অনুমতি দেবে না বলে এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে দেশগুলোর সরকার। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে হজযাত্রা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হজ নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে সারা পৃথিবীর মুসলমানদের যেমন একটা চাপ আছে, তেমনি সৌদি আরব নিজেও প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে একটা পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকেই এ বছর হজ বাতিল করার পক্ষে।
তবে সবদিক বিবেচনায় করোনাভাইরাসের টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও সীমিত আকারে হজ আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার। প্রতিটি দেশ থেকে নির্দিষ্ট কোটার ২০ শতাংশ মুসল্লিকে বিশেষ ব্যবস্থায় উড়িয়ে নেয়া হবে।
সেজন্য চলতি বছরের হজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সৌদি সরকার। দফায় দফায় বৈঠক করেও তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছিলেন না। বিশেষজ্ঞরাও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান, এক দল হজ অনুষ্ঠানের পক্ষে এবং আরেক দল বিপক্ষে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, বেশ কিছু দিক বিবেচনায় নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি ভাবছে সৌদি সরকার। হজের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত দুটি প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে হজ আয়োজন করা। অন্যটি হচ্ছে, হজ বাতিল করা হতে পারে।
দুটি প্রস্তাব নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে মুসল্লিদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দুই একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
-এটি