মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ।। ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কাতারে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির লাশ গ্রহণ করলেন মুফতি আবুল হাসান এমপি ইফার ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ বাকী নদভী বিক্রির পরও মালিকানা বদল না করায় ৩৮ হাজার গাড়ির মালিককে সমন  আগামী মার্চে কমলাপুর যাচ্ছে মেট্রো, যাত্রী বাড়বে ২০ শতাংশ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস জুলাই মাসে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম আস-সুন্নাহ ট্রেনিং সেন্টারে ৭০ হাজার বর্গফুটের নতুন ক্যাম্পাস এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একসঙ্গে দুই ভাতা নিতে পারবেন না ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিবের সঙ্গে বিকেএম নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্বকাপে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ায় নজর কেড়েছে মরক্কো

কবি ফররুখ: মুসলিম পুন:জাগরণের কবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মহিউদ্দীন খান তানজীম।।

ত্রিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতায় যিনি পৃথক একটি দিগন্ত উন্মোচন করেন,তিনি ফররুখ আহমদ। তিনি তার ইসলামী পুনঃজাগরণমুখী সাহিত্যে জীবনের মহৎ আদর্শকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

১৯১৮ সালের ১০ জুন যশোর জেলার মাগুরা মহাকুমার মধুমতি নদীর তীরে মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।নির্লোভ,নির্মোহ, ও নির্ভয়ে এ মানুষটি লিখেছেন বাংলাভাষা ও দেশের জন্য। লিখেছেন মুসলিম উম্মাহর জন্য। তিনি রেডিও পাকিস্তান ঢাকা ও বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্পী ছিলেন। ফররুখ আহমদের কাব্যে ইতিহাস,ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্বদেশ ফুটে উঠেছে স্বার্থকভাবে। অফুরান সৌন্দর্য, উদাস কল্পনা,রূঢ় বাস্তবতা, প্রদীপিত আদর্শ,সমুদ্রবিহার,তার কবিতায় মৌলিক চরিত্র নির্মাণ করেছে।

যতদূর জানা যায়,বাংলা ১৩৪৪ বা ইংরেজি ১৯৩৭ সালে ফররুখ আহমদ সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন। এই বছরই 'বুলবুল' ও 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় তার প্রথম রচনাবলী প্রকাশিত হয়।

ফররুখ কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও গল্পতেও ছিল তার দক্ষতা। এসম্পর্কে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনে কথাসাহিত্যিক শাখার সভাপতির অভিভাষণে মোহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ বলেন,"তরুণ কথাসাহিত্যিকদের মধ্যেও কয়েকজন উদ্যম আশাপ্রদ বলিয়া মনে হইতেছে। আবু রুশদ, ফররুখ আহমদ,আবুজাফর শামসুদ্দীন,প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য। "(মোহাম্মদী,১৩৪৬ বাংলা)

মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহমুখী করতে তিনি আবৃত্তি করেছেনঃ
তোরা চাসনে কিছু কারো কাছে খোদার মদদ ছাড়া।
তোরা পরের উপর ভরসা ছেড়ে নিজের পায়ে দাড়া।

দেশের লুটেরা নেতাদের ব্যঙ্গ করে তিনি রচনা করেছেন,
সেইসব কীর্তিমানদের সালাম জানাই
সব মানুষের পকেট কেটে
যারা নিজেরা শরীফ বনেছেন
আর জাতিকে বানিয়েছেন ভিক্ষাজীবী, আতরাফ।
এবং রূপকথার ব্যঙের মতো
সোনালী পাচিলের ফোকলা থেকে দেখছেন
দূর্গত দেশবাসীর মিসকিন হালৎ।

ফররুখ আহমদের অন্যতম কীর্তি হলো 'সিরাজাম মুনিরা' কাব্যগ্রন্থ।
সিরাজাম মুনিরা কাব্যগ্রন্থের "মৃত্যু-সংকট" সনেটে খুব দারুণভাবে ফুটে উঠেছে Rhetorical question -এর ব্যবহার।

তিনি এর ব্যবহার করেছেন এভাবেঃ
"তোমাকে আফিম বলে জড়ধর্মী-কোন দেহবাদী?
মস্তিস্কের মধ্যপথে ভুলিয়া আত্মার পরিচয়
ইবলিসের গুপ্ত মন্ত্র ছড়ায় কে আজ বিশ্বময়;
মনের প্রশান্ত মাঠ কে আজ করেছে অনাবাদী?"

পাঞ্জেরী,সিরাজাম মুনিরা, নৌফেল হাতেম,মুহূর্তের কবিতা, হাতেম তায়ী,দিলরুবা, ইকবালের নির্বাচিত কবিতা,মাহফিল, হে বন্য স্বপ্নেরা প্রভৃতি তার অমর সাহিত্যকীর্তি। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর মহান এই কবি ঢাকার ইস্কাটনে ইন্তেকাল করেন।

লেখক, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,বৃন্দাবন সরকারী কলেজ, হবিগঞ্জ

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ