বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩০ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৫ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :

দারুল আরকামের ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রফিকুল ইসলাম জসিম ।।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প থেকে দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা বাদ দেয়ায় সারাদেশে দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে। ২০২০ শিক্ষা বর্ষের শুরু থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার আলেম শিক্ষক-শিক্ষিকারা দীর্ঘ ৫ মাস যাবত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বেতন না পেয়ে শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

গত ১১ মে লকডাউনের মাঝে পরিকল্পনা কমিশন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবিত পাঁচ বছর মেয়াদি সপ্তম পর্বে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। উল্লেখিত প্রকল্প থেকে দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসাকে বাদ রাখায় ১ হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষিকদের জীবনের নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা কারও কাছে হাতও পাততে পারছেন না। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে তাদের বকেয়া বেতন-বোনাস দিতে হবে।

ইফা সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ২০১৭ সালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের প্রতি উপজেলায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্পের অধীন ১ম সংশোধনীর মাধ্যমে 'দারুল আরকাম' নামে ১০১০ টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে। মাদরাসাগুলোর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করা হয়।

২০১৮ সালে ১০১০ জন ক্বওমী ও ১০১০ জন আলিয়া মাদরাসার সনদদারী আলেম নিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। ক্বওমী সনদের স্বীকৃতির পর এইটাই প্রথম ক্বওমী আলেমদের সরকারি নিয়োগ!

শুরুতে ইফার নিজস্ব সিলেবাসে ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হলেও ২০১৯ সালে এসব মাদরাসা ৫ম শ্রেণীতে উন্নিত করা হয়। গতবছর ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও ধর্ম-মন্ত্রণালয়ের চাহিদায় প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখা হয়। গত ১১ তারিখ মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি পাশ হলেও প্রকল্প থেকে দারুল আরকামকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে ২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেমন অন্ধকারে তেমনি ২০২০ জন শিক্ষক ৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা না মানবেতর জীবন-যাপন করে এখন নতুন করে চাকরি নিয়ে হতাশায় পড়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আওয়ার ইসলামের সাথে আলাপকালে
নাটোর ক্বওমী নেসাবের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, সরকার দারুল আরকাম মাদরাসার মাধ্যমে ক্বওমী গ্রেজুয়েটদের চাকরি দেওয়ার পর দেশের ক্বওমী অঙ্গনে এক ধরনের আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিলো, কিন্ত বর্তমানে তা হতাশায় পরিণত হয়েছে। রাজস্ব ও স্কেলে না নিয়ে সামান্য সম্মানি দেওয়া হয়। বর্তমানে এই মহা দুর্যোগে ও ৫ মাস ধরে বেতনহীন আছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেমনে আছি তা একমাত্র আল্লাহ পাকই জানেন।

এ ব্যাপারে দারুল আরকাম শিক্ষক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মামুন আবদুল্লাহ বলেন, "প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে বারবার অবগত করে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের এই সংকট নিরসনের অনুরোধ করেছি।"

এই ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নের সদস্য আলহাজ্ব মিসবাহুর রহমানের সাথে আলাপ হয়। তিনি বলেন, "দারুল আরকাম মউশিক প্রকল্প থেকে বাদ হয়েছে কিন্তু নতুন প্রকল্প হচ্ছে দারুল আরকামের জন্য। আমি শিক্ষকদের বেতন ভাতার জন্য ধর্মমন্ত্রীর সাথে আলাপ করেছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো করা হয়েছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে একধরনের অবহেলার শিকার হচ্ছে। বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর নলেজে দেব। ইফায় কোন ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজ যেন না হয় সে ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রীকে সজাগ থাকতে হবে।

এদিকে, গতকাল রোববার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শেই মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প থেকে ১ হাজার ১০টি দারুল আরকার ইবতেদায়ী মাদরাসা পৃথক করা হয়েছে। এসব মাদরাসার শিক্ষকদের পদগুলো স্থায়ী হবে। সরকারের বিধি অনুসরণ করে এসব মাদরাসাগুলো এমপিও ভুক্তকরণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে বলেও ইফা মহাপরিচালক উল্লেখ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ইফা ডিজি আনিস মাহমুদ বলেন, সরকার মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে ৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এখন এ প্রকল্পের ৭৫ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা কর্মচারির বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যস্ত আছি। ঈদুল ফিতরের পরে ইফার দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার জন্য পৃথক ভাবে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হবে বলেও ইফা ডিজি উল্লেখ করেন।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ