আওয়ার ইসলাম: করোনা চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতাল বাছাই করে আবার বাদ দেয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্ধারণ করতে বারবার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একাধিক হাসপাতাল নির্বাচন করে আবার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাদ পড়া হাসপাতাল আবার কয়েক দিনের মাথায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যালোচনা ছাড়া হুটহাট করে হাসপাতাল নির্ধারণ করার কারণেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অন্য রোগের চিকিৎসা নির্বিঘ্ন করতেই তালিকা কাঁটাছেড়া করা হয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের ৫০তম দিনে মোট আক্রান্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। এরমধ্যে শেষ দশ দিনেই আক্রান্ত সাইত্রিশশ ঊনচল্লিশ জন। অর্থাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই।
সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর করোনাভাইরাসের চিকিৎসা শুরু হয় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। এরপর রোগী বাড়তে থাকায় যোগ হতে থাকে নতুন নতুন হাসপাতাল। এরই ধারাবাহিকতায় ষোলোই এপ্রিল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটকে কোভিড-নাইনটিন চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পাঁচ দিনের মাথায় এই হাসপাতালটিকে বাদ দিয়ে তালিকায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
করোনা জাতীয় প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা। পুরো হাসপাতালে আইসিইউ বেড স্থানান্তর করা যত সহজ, অন্য কোথাও তা এত সহজ না। হাসপাতাল যারা পরিচালনা করেন মনে হচ্ছে তাদের স্বার্থটাই বড়।
সিদ্ধান্তহীনতা ঘটেছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ক্ষেত্রেও। একুশে এপ্রিল, এই হাসপাতালটিকে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করার ৪৮ ঘণ্টা যেতে না যেতই তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
বারবার এমন সিদ্ধান্তহীনতার জন্য প্রশাসকদের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করেন কোভিড-নাইনটিন জাতীয় প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ডা. ইকবাল আর্সলান।
সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা বাদে অন্য রোগের চিকিৎসা স্বাভাবিক রাখার জন্যই হাসপাতালের তালিকায় কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, অনেকগুলো দিক বিবেচনা করেই এই তালিকা কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ করোনা ছাড়াও অন্যান্য অসুখও মানুষের হচ্ছে, তাদের কথা চিন্তা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর সিদ্ধান্তগুলো সরকারের, অধিদপ্তরের না।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আর কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
-এটি