আওয়ার ইসলাম: কওমি ও প্রাইভেট মাদ্রাসা শিক্ষক এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম সাহেবদের দাবি নিয়ে জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট খোলা চিঠি।
আজ শনিবার জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি প্রেরণ করা হয় চিঠিতে বলা হয়- জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কওমি, কেরাতুল কুরআন, নূরানী, হেফজুল কুরআন মাদ্রাসাসহ দীনি সকল প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিদের জন্য কিছু দাবি পেশ করা বর্তমান সময়ের ঈমানী নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
মরনঘাতি করনা ভাইরাসের ছোবলে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত! আতংকিত! দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ক্রমান্বয়ে উর্ধ্বমূখী। দেশের ভবিষ্যৎ অবস্থা কি হবে! আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। তবে আল্লাহর রহমত কামনা বাদ সতর্কতার সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে আপন গৃহে অবস্থান করা এবং একে অন্যকে সতর্ক করা ছাড়া আমাদের আর কি-ই বা করার আছে? আমরা তা-ই করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
করোনা ভাইরাস তথা COVID-19 থেকে বাঁচার জন্য এবং জাতিকে বাঁচানোর জন্য আপনার সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত গার্মেন্টস শিল্পের জন্য- ৫ হাজার কোটি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধারণের জন্য- ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি ও রিকশাচালক এবং দিন মজুরদের জন্য- ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্ধসহ সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে গৃহিত সকল কর্মসূচিকে স্বাগত জানাই এবং আপনার শুকরিয়া আদায় করি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যেখানে গার্মেন্টসকর্মী, দিনমজুর, রিক্সাওয়ালা ভাই বোনেরা পর্যন্ত সরকারি সহযোগিতা পেল, সেখানে অত্যন্ত দুঃখ এবং ভারাক্রান্ত মনে বলতে হচ্ছে আমাদের দেশের কওমি, কেরাতুল কুরআন, নূরানী, হেফজুল কুরআন মাদ্রাসাসহ সকল প্রাইভেট দীনি প্রতিষ্ঠানের অসহায় শিক্ষক-কর্মচারিদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আপদকালীন ভাতা কিংবা প্রনোদনার সুসংবাদ থেকে সম্পুর্ন বঞ্চিত। অথচ-
যারা এদেশের বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দীন, ঈমান, ইসলামের আলোয় আলোকিত করার জন্য দীনি স্বার্থে সর্বনিম্ন সম্মানী নিয়ে জীবন ও সময়ের কোরবানি দিয়ে চলেছেন।
যারা দেশের প্রতিটি দুর্দিনে, দুর্যোগে ও দুঃসময়ে সর্বাগ্রে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে মানব সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই চলেছেন।
সকল প্রকার ঝুঁকি ও ভয়কে উপেক্ষা করে যারা দেশব্যাপী সেচ্ছায় প্রানঘাতি করোনায় মৃতদের দাফন-কাফন জানাযার জন্য সকল দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকারের বিশাল দায়-দ্বায়িত্বকে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
হাট বাজারসহ জনপথের অন্য কোথাও সরকারী নির্দেশনা আংশিক পালিত হলেও যারা মসজিদ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ রেখে সরকারী শতভাগ নির্দেশনা পালনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
যারা আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধ সংরক্ষনের জন্য অভাবের তাড়নায় মরতে রাজি কিন্তু কারো কাছে হাত পাততে রাজি হয় না।
আজকের দুর্যোগে অনাহারের মাঝেও যাদের দিন কাটে কুরআন তিলাওয়াত, দীনি তালিম, আদর্শিক তারবিয়াত ও আল্লাহ পাকের জিকিরে আর রাত্রের বেশিরভাগ সময় কাটে জায়নামাজে মালিকের সিজদায় অশ্রুসিক্ত অবস্থায়।
সর্বোপরি, যারা কওমি জননী বলে আপনাকে সম্বোধন করেছিল! তাদের জন্য কি করলেন? হে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় ওয়ায়েজিন পরিষদের নিজস্ব সামর্থ নিয়ে দেশের ৪০ টির অধিক জেলায় অভাবগ্রস্থ আলেমদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। সে সুবাদে আমরা জানতে পেরেছি তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা, বুঝতে পেরেছি বৃদ্ধ বাবা-মা, পরিবার পরিজনদের নিয়ে চলমান তাদের বর্তমান মৃতপ্রায় জীবনের বাস্তবতার ভয়াবহ চিত্র। এছাড়া- অধিকাংশ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বাড়ি ভাড়ার দায় নিয়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
বর্তমানে সহায়, সম্বলহীন সম্মানিত ওলামায়েকেরামদের কারে জানা নাই! আসন্ন মাহে রমযান তাদের কিভাবে কাটবে!
কোত্থেকে ব্যবস্থা হবে তাদের সেহরি-ইফতারের! অভূক্ত থেকে কিভাবে করবেন মাহে রমযানের সিয়াম সাধনা!
দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে এসকল অভাবী মানুষগুলো আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনিই বলেছেন ভয়াবহ করোনা লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘরে বসে নামাজ আদায় এবং বেশি বেশি দোয়া করার জন্য। অথচ, নামাজ, দোয়া, জিকির, কোরআন তিলাওয়াতে যারা সার্বক্ষনিক ডুবে থাকেন! তারাই আজ রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে অবহেলিত, নিগৃহীত! এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে?
অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ- এদেশের কওমি, কেরাতুল কোরআন, নুরানি, হেফজুল কোরআন মাদ্রাসাসহ সকল প্রাইভেট দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়-সম্বলহীন শিক্ষক, কর্মচারী ও মসজিদ সমূহের ইমাম মুয়াজ্জিন, খাদেম সাহেবদের জন্য দলমত সংকীর্নতার উর্দ্ধে থেকে আপাতকালীন বিশেষ বরাদ্দ তথা এপ্রিল, মে, জুন' ২০২০ এই তিন মাসের বিশেষ ভাতা প্রদানের জোড় দাবী জানাচ্ছি এবং তদসংগে কয়েকটি যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাবনা পেশ করছি।
প্রস্তাবনা-০১. সামর্থবান মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি, মসজিদ-মাদ্রাসার স্টাফদের সময়মত বেতন-ভাতা পরিশোধ করবেন।
প্রস্তাবনা০২.অসচ্ছল প্রাইভেট মাদ্রাসাসমূহের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করতে হবে এবং বাড়ির কোনো প্রকার লোন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তার কিস্তি মওকুফ করতে হবে।
প্রস্তাবনা০৩. মহান হৃদয়ের অধিকারী বাড়ি মালিকদের ভাড়া মওকুফকৃত বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল সরকারকে মওকুফ করতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় ধর্মপ্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির প্রত্যাশায় জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে, করোনা ভাইরাস থেকে দেশ ও জাতির মুক্তি কামনায় শেষ করছি।
সম্মানিত ওলামায়েকেরাম ও বহুমূখী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের দীনি স্বার্থ বিবেচনায় সকলে ভিডিওটি শেয়ার করবেন, সে আহবান থাকলো।
-এটি