মুহাম্মদ ইকরামুল হক
চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা প্রতিনিধি>
সম্প্রতি সময়ের পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সতর্কতামুলক ব্যবস্থা হিসেবে ধর্মমন্ত্রণালয়ের দেয়া নির্দেশনায় মসজিতে ওয়াক্তিয়া নামাজে ৫ ও জু'মার নামাজে ১০ জনের অধিক অংশগ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের আল জামেয়াতুল আরবিয়া ইসলামিয়া জিরির প্রধান পরিচালক ও শায়খুল হাদিস, মহিউচ্ছুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ. এর খলিফা আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব বলেছেন মসজিদে উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মধ্যে জামাত চালাতে হবে।
মসজিদে মুসল্লীদের অংশগ্রহণ ব্যাপারে আজ (১৬ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি উপিউক্ত মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন করোনা ভাইরাস সৃষ্টি, আল্লাহ তায়ালা এ ভাইরাসের স্রষ্টা। সৃষ্টির ভয়ে স্রষ্টার ইবাদত ছেড়ে দেয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। অতএব করোনা ভাইরাসের ভয়ে ঘরে বসে না থেকে স্রষ্টার ঘরে গিয়ে তার ইবাদত করতে হবে। করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে পরিত্রাণলাভের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ প্রশংসনীয়। তবে মসজিদে মুসল্লীদের সংখ্যা নির্ধারণের কারণে বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তালা লাগানো, ইমাম-মুআজ্জিন, মুসল্লিদের হয়রানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
কুরআনের আরো অনেক আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, মসজিদ কখনো বন্ধ হওয়া নয়, মসজিদের মুসল্লি কখনো নিষিদ্ধ করাও নয়। কুরআন মজিদের বিভিন্ন আয়াত পাঠ করে তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তি থেকে অধিক অত্যাচারী আর কে হতে পারে? যে মানুষ কে বাধাঁ দেই মসজিদে যেতে এবং আল্লাহর নাম নিতে ( সুরা বাক্বারা আয়াত ১১৪)
তিনি আরো বলেন, কাঁচাবাজার গুলোতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জনসমাগমের বৈধতা থাকলে আল্লাহর ফরজ বিধান জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য অজু ও পবিত্রতার সাথে স্বল্প সময়ে সাধারণ মুসল্লীদের মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ঠিক নয়।
আল্লাহর বিশেষ রহমত অর্জন এবং আল্লাহর গজব করোনা মহামারী থেকে মুক্তি লাভের জন্য সংখ্যার শর্ত তুলে দিয়ে সীমিত সময়ে অন্তত ফরজ নামাজ মসজিদে জামাতে পড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবী রহিল।
পরিশেষে তিনি মাহে রমজানকে সামনে রেখে বলেন, সরকারের কাছে আশা রাখবো এই রহমতের মাসের ইবাদত থেকে মানুষকে মাহরুম করবেনা। এ মহৎ উদ্যোগ আল্লাহর রহমতকে তরান্বিত করবে এবং দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ।
-এটি