আওয়ার ইসলাম: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই কমেছে। করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৩ জন।
আজ শনিবার দুপুরে মহাখালী থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে যুক্ত হয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৫৪ জনের। তার মধ্যে করোনায় আক্রান্ত পাওয়া গেছে ৫৮, যা গতকালের তুলনায় অনেক কমেছে। আমরা মনে করি এটা একটা ভালো সংবাদ। মৃত্যুবরণ করেছে ৩ জন, সেটাও গতকালের তুলনায় কম। এটাও একটা ভালো খবর। যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করলো ৩০ জন।
করোনার চিকিৎসার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার রোগীদের জন্য আমরা হাসপাতাল সুসজ্জিত করছি। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার ২ হাজার বেডে উন্নীত করা হচ্ছে। ঢাকা সিটি উত্তর করপোরেশনে ১৩শ বেডে উন্নীত করা হচ্ছে। উত্তরা দিয়াবাড়ির চারটি বহুতল ভবনকে আমরা ১২শ বেডে উন্নীত করছি। সর্বমোট এখানে সাড়ে ৪ হাজার বেডের সংস্থান হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে করোনার জন্য প্রস্তুত করা প্রয়োজন। আমাদের বেশ কয়েকটি হাসপাতালের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তারমধ্যে আগামীতে হয়তো মুগদার কথা চিন্তা করবো এবং আরও বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে আমরা করোনার জন্য নিয়ে আসবো।
জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোও এগিয়ে আসছে। আমরা আনন্দিত যে তারা এখন চিকিৎসা দিচ্ছে। তাদের বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে আমরা করোনার চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসবো। এইসবগুলো হাসপাতালই সুসজ্জিত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, করোনা বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্তার লাভ করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর এবং বাসাবো। আমাদের অন্যান্য জেলায়ও করোনা ছড়িয়ে গেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে বেশ কিছু লোক অন্যান্য জেলায় চলে গিয়েছে এবং সেখানে আক্রান্ত করেছে। এই বিষয়টি উদ্বেগজনক। এই বিষয়টিকে আমাদেরকে আরও কঠিনভাবে দেখতে হবে এবং এটা বন্ধ করতে হবে।
‘আমরা লক্ষ্য করেছি, লোকজন এখনো ঘোরাফেরা করছে। অলিগলিতে বেশি করে ঘোরাফেরা করছে। বাজারেও আমরা দেখি লোকজনের উপস্থিতি অনেক বেশি হচ্ছে। তাতে আমরা মনে করি সংক্রমণের হার আরও বেড়ে যাবে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনাদেরকে বুঝতে হবে, যেটা লকডাউন করা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন সেগুলো আমাদেরকে মেনে চলতে হবে। আপনারা ইউরোপ, আমেরিকার দিকে তাকান সেখানে কি ভয়াবহ চিত্র বিরাজ করছে। লকডাউন যদি ভালো করে কার্যকর হয়, তাহলে সংক্রমণ কমবে।’
সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করবো এই কয়টি দিন আমরা কষ্ট করে যেন বাড়িতে থাকি। এখ কষ্ট করলে আমরা তাড়াতাড়ি এই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ আমরা করতে পারবো। আমাদের প্রশাসন, আমাদের আর্মি, পুলিশ নেতৃবৃন্দ সকলেই কষ্ট করছেন। আগামী কয়েকদিন আরেকটু কষ্ট করতে হবে, এই ২৫ তারিখ পর্যন্ত। যাতে করে আমাদের এই লকডাউনটি কার্যকর হয়।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু নার্স, ডাক্তার, সেনা সদস্য, পুলিশ সদস্য এবং গণমাধ্যমের সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সুস্থতা আমি কামনা করি। আবারও বলি ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, আক্রান্ত হবেন না। করোনা পরীক্ষা করান, করোনা পরীক্ষা করান। নিজে বাঁচুন, প্রিয়জনকে বাঁচান এবং অন্যকে বাঁচান। সময়ের একফোঁড়, অসময়ের দশফোঁড়- এই বিষয়টি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে।
-এএ