শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ ।। ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৮ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
পবিত্র রমজান মাসে কারও কষ্টের কারণ না হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ফেনীতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নিম্নবিত্তদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া বৃহত্তর মিরপুরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের ৬ই শাওয়াল থেকে ভর্তি নিবে নদওয়াতুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ শাশ্বত অনুপ্রেরণার উৎস: পীর সাহেব চরমোনাই ৫ শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে খলিফা ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘আরও ২টি ভেসেল আসছে, জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই’ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করায় আইআরজিসির ড্রোন হামলা রিজওয়ানার বক্তব্যে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং প্রমাণিত: আমিরে মজলিস

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা প্রদান অবৈধ: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে (মোবাইল কোর্টে) কোনো শিশুকে সাজা দেয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ১২১ শিশুকে মোবাইল কোর্টের দেয়া দণ্ড অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মুহা. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশুদের পক্ষে শুনানি করেন চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান।

রায়ের পর ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বলেন, ১২১ শিশুকে দণ্ড দেয়া নিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। সে রুলের শুনানি শেষে রায় হয়েছে। আদালত বলেছেন ১২১ শিশুর সাজা প্রদান সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। আদালত আরও বলেছেন কোনো শিশুকেই মোবাইল কোর্ট কোনো ধরনের দণ্ড দিতে পারবে না। ১২১ শিশু অন্য কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলে তাদেরকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু আইন অনুযায়ী একমাত্র শিশু আদালতই শিশুদের দণ্ড দিতে পারবে। অন্য কোনো আদালত দণ্ড দিলে তা অবৈধ হবে। মোবাইল কোর্ট শিশুদের দণ্ড প্রদান করে তবে তা সংবিধানের সাংবিধানিক ও মৌলিক মানবাধিকার সংক্রান্ত ধারা ৩০ ও ৩৫ এর পরিপন্থী হবে।

তিনি আরও বলেন, আদালত বলেছেন, এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশে আসলে দুই ধরনের বিচার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থা এবং মোবাইল কোর্ট বিচার ব্যবস্থা। এই মোবাইল কোর্ট বিচার ব্যবস্থা স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার সাথে একটি অসমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। যা শুধু অসাংবিধানিকই নয়, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থীই নয়, গণতান্ত্রিক ন্যায়নীতির পরীপন্থী, মানবাধিকারের পরিপন্থী।

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর ‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন ওই দিনই হাইকোর্টের নজের আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। নজরে আনার পর হাইকোর্ট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ডিত দুটি শিশু সংশোধন কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের নিচের শিশুদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া বাকিদের ছয় মাসের জামিন দেন। তারা সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে জামিননামা দেওয়ার পর মুক্তি পাবেন। একইসঙ্গে ভ্রম্যমাণ আদালতে শিশুদের দণ্ড প্রদান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর বিভিন্ন সময়ে ওইসব শিশুকে মুক্তি দেয়া হয়। বুধবার রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ