বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৬-২৭ সালের অনুমোদিত ১২৮ ওমরাহ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ​মুরাদনগরের ইউএনও সারওয়ার রাব্বী গুরুতর অসুস্থ: জমিয়তের দোয়ার আহ্বান জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান ছাত্র জমিয়তের স্মৃতির পাতায় ৫ আগস্ট ও নতুন স্বাধীনতার ভোর গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে থাকলে ন্যায়বিচার মিলবে না: গাজী আতাউর রহমান জমিয়তের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত ছাত্রদল-শিবিরের হামলার নিন্দা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট বিভাগ দিয়ে শুরু হচ্ছে বেফাক বোর্ডের মাদরাসা পরিদর্শন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সৌদি শুক্রবার আফতাবনগরের খতমে নবুওয়াত কনফারেন্সে বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা প্রদান অবৈধ: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে (মোবাইল কোর্টে) কোনো শিশুকে সাজা দেয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ১২১ শিশুকে মোবাইল কোর্টের দেয়া দণ্ড অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মুহা. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশুদের পক্ষে শুনানি করেন চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও আইনজীবী ইশরাত হাসান।

রায়ের পর ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বলেন, ১২১ শিশুকে দণ্ড দেয়া নিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। সে রুলের শুনানি শেষে রায় হয়েছে। আদালত বলেছেন ১২১ শিশুর সাজা প্রদান সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। আদালত আরও বলেছেন কোনো শিশুকেই মোবাইল কোর্ট কোনো ধরনের দণ্ড দিতে পারবে না। ১২১ শিশু অন্য কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলে তাদেরকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু আইন অনুযায়ী একমাত্র শিশু আদালতই শিশুদের দণ্ড দিতে পারবে। অন্য কোনো আদালত দণ্ড দিলে তা অবৈধ হবে। মোবাইল কোর্ট শিশুদের দণ্ড প্রদান করে তবে তা সংবিধানের সাংবিধানিক ও মৌলিক মানবাধিকার সংক্রান্ত ধারা ৩০ ও ৩৫ এর পরিপন্থী হবে।

তিনি আরও বলেন, আদালত বলেছেন, এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দেশে আসলে দুই ধরনের বিচার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থা এবং মোবাইল কোর্ট বিচার ব্যবস্থা। এই মোবাইল কোর্ট বিচার ব্যবস্থা স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থার সাথে একটি অসমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। যা শুধু অসাংবিধানিকই নয়, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থীই নয়, গণতান্ত্রিক ন্যায়নীতির পরীপন্থী, মানবাধিকারের পরিপন্থী।

এর আগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর ‘আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন ওই দিনই হাইকোর্টের নজের আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। নজরে আনার পর হাইকোর্ট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ডিত দুটি শিশু সংশোধন কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের নিচের শিশুদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া বাকিদের ছয় মাসের জামিন দেন। তারা সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে জামিননামা দেওয়ার পর মুক্তি পাবেন। একইসঙ্গে ভ্রম্যমাণ আদালতে শিশুদের দণ্ড প্রদান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর বিভিন্ন সময়ে ওইসব শিশুকে মুক্তি দেয়া হয়। বুধবার রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ