আওয়ার ইসলাম: পবিত্র মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে জীবনবিনাশি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নিয়মিত কর্মীদের সঙ্গে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিয়েছেন আল হারামাইনিশ শারিফাইনের প্রধান তত্বাবধায়ক শায়খ আব্দুর রহমান আস সুদাইসি।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার খাদেমদের উদ্বুদ্ধ করতে শায়খ সুদাইসি হাজরে আসওয়াদ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় জীবানুনাশক স্রে করে পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশগ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে মসজিদুল হারামের প্রধান এই ইমামকে রুকনে ইয়ামানি, মাতাফ ও হজযাত্রীদের অবস্থান করার আশপাশের এলাকাগুলোও ধৌত করতে দেখা যায়।
কাজ করার পরে গণমাধ্যমকে নিজের অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করেন শায়খ আব্দুর রহমান আস সুদাইসি, 'সমাগত মুসল্লিদের জন্য ভাইরাস থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে এবং তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মসজিদুল হারামে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ধোয়ামোছার পাশাপাশি জীবানুনাশক স্ফ্রে করা হচ্ছে-মসজিদুল হারামের পবিত্রতা ও সুরক্ষার জন্য খেদমত করতে পারাটা বড় সৌভাগ্যের।
এই কাজগুলো হয়তো আল্লাহ তায়ালার অতিথিদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এবং তারা সম্ভাব্য ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবে। মহান আল্লাহ তাদের বড় পুরষ্কার দান করুন-আমিন।
প্রসঙ্গত, মসজিদুল হারাম ও মাতাফ বা তাওয়াফের স্থানকে সাধারণত সারা বছর খুব গুরুত্ব সহকারে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। তবে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পবিত্র এই মসজিদ ও তার আঙিনার পরিচ্ছন্নতার মাত্রা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সৌদি গণমাধ্যম আল আরাবিয়া জানায়, ফজর থেকে ইশার নামাজ পর্যন্ত দৈনিক অন্তত তিনবার ধুয়েমুছে পরিস্কার করা হচ্ছে মসজিদুল হারাম। আল হারামাইনিশ শারিফাইন কতৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়, যেকোনো রকমের ময়লা আবর্জনা থেকে হারাম শরিফ সবসময় যেন মুক্ত থাকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তাছাড়া, সমাগত মুসল্লি ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সবধরনের পোকামাকড় বিনাশ করতে ও মসজিদের আশপাশ জীবানুমক্ত রাখতে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আল হারামাইনিশ শারিফাইন কতৃপক্ষ জানায়, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরে আল হারামাইনিশ শারিফাইন ( পবিত্র দুই মসজিদ) পরিচ্ছন্ন রাখতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা যথাসময়ে মসজিদ ধোয়ামোছা, কার্পেট পরিবর্তন, সুগন্ধি ও জীবানুনাশক স্ফ্রে সরবরাহের কাজ করছে।
মসজিদুল হারাম দৈনিক তিন বার ধৌত করার পাশাপাশি মাতাফকে প্রতিদিন অন্তত সাত বার ধুয়েমুছে পরিস্কার করা হচ্ছে। রাতদিন চব্বিশ ঘন্টার জন্য অন্তত ৩ শো ৩০ জন খাদেম মসজিদ ও মাতাফ পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়োজিত রয়েছে। তারা বিভিন্ন আধুনিক মেশিন ও উপায় অবলম্বন করে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে।
আল আরাবিয়া অবলম্বনে বেলায়েত হুসাইন
-এটি