আওয়ার ইসলাম: জয় বাংলাকে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়টি কার্যকর করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে রায়টি কার্যকর করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান চেয়ে করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
আদালত তার রায়ে, ‘রাষ্ট্রীয় সকল অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক পদাধিকারী ও সরকারি কর্মকর্তারা যাতে তাদের বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেনে সে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছেন।’
এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাসেম্বলি শেষে যাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করা হয় সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।
এর আগে ২০১৭ সালে এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। আবেদনের পক্ষে তিনি আদালতে শুনানি করেন।
২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।
পরে ৫ ডিসেম্বর থেকে এ রুলের শুনানি শুরু হয়। রুলের বিবাদীরা হচ্ছেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিব।
২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর আদেশের পরে বশির আহমেদ বলেছিলেন, জয় বাংলা হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রেরণার প্রতীক। পৃথিবীর ৬০টি দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে আমরা আমাদের চেতনার সেই ‘জয় বাংলা’কে স্বাধীনতার এতদিন পরেও জাতীয় স্লোগান হিসেবে পাই নাই।
‘জয় বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়, কোনো ব্যক্তির স্লোগান নয়, এটা হচ্ছে আমাদের ন্যাশনাল ইউনিটি। এই স্লোগান দিয়ে একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।’
-এএ