আওয়ার ইসলাম: ভারতের দিল্লিতে সহিংসতায় হত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ও মুসলমানদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার জুমার পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমমনা ইসলামি দলগুলো।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তেব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইন ও নাগরিকপঞ্জি তৈরির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের কারণে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমানদের নির্মম ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে সহিংসতা চললেও দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আদালত, রাজ্য সরকার; কেউই তা থামাতে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
‘দিল্লিতে একের পর মসজিদে হামলা, মসজিদের মিনারগুলোতে হিন্দুধর্মীয় প্রতীক স্থাপন করা হচ্ছে। যা মুসলমানদের ঈমান-বিশ্বাস-অনুভূতির প্রতি চরম অবমাননাকর। যা মুসলিম বিশ্ব নিরবে সহ্য করতে পারে না।’
বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটূট রাখতে এবং ভারত সরকারের মুসলিমবিদ্বেষী অপতৎপরতার প্রতিবাদ জানাতে কয়েকদিন ধরে চলা সহিংসতার প্রধানতম দায়ী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর সরকারকে বাতিলের আহ্বান জানান তিনি।
[caption id="attachment_175956" align="aligncenter" width="300"]
বই কিনতে ক্লিক করুন[/caption]
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড.আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ভারতীয় এই গণহত্যা থামানোর জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে জোরালো দাবি তুলে ধরা বাংলাদেশ সরকারের নৈতিক, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। কারণ সাংবিধানিকভাবে বিশ্বের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে ভারতীয় এই গণহত্যার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আমরা ভারতের প্রতিবেশী হওয়ায় আমাদেরকে সর্বাগ্রে সচেতন হওয়া উচিত। দেশব্যাপী প্রতিবাদী ঝড় তুলতে হবে। মুসলমানদেরকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। দেশের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার সার্থে হিন্দু ধর্মালম্বীদেরকেও প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া উচিত। ভারতকে মুসলিম নিধন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ রাজপথে নেমেছে রাজপথে থাকবে।

জমিয়তে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমীর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসূফী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, নায়বে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মোস্তফা তারিকুল হাসান, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা ডা.আব্দুল করিম, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মুনির হোছাইন কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, এনডিপির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, জমিয়তের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মতিউর রহমান, গাজীপুরী প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
-এএ