মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

পানির দাম বাড়াল ওয়াসা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বিশুদ্ধ পানির সংকট ও সরবরাহে জটিলতার মধ্যে দাম বাড়াল ঢাকা ও চট্রগ্রাম ওয়াসা। ঢাকা ওয়াসায় আবাসিক ক্ষেত্রে দাম প্রতি ইউনিটে (এক হাজার লিটার) ১১.৫৭ টাকা থেকে ২ টাকা ৮৯ পয়সা বাড়িয়ে ১৪.৪৬ টাকা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ৩৭.০৪ টাকা থেকে ২ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়িয়ে ৩০.৩০ টাকা করা হয়েছে।

ওয়াসার পানির দাম বছরে সাধারণত ৫ শতাংশ হারে বাড়ার নিয়ম থাকলেও এ দফায় আবাসিকে বাড়ানো হয়েছে ২৪.৯৭ শতাংশ। আর বাণিজ্যিকে বাড়ানো হয়েছে ৭.৯৯ শতাংশ।

অন্যদিকে চট্রগ্রাম ওয়াসায় আবাসিক ক্ষেত্রে ৯.৯২ টাকা থেকে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ১২.৪০টা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ২৭.৫৬ থেকে ২ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ৩০.৩০ টাকা করা হয়েছে।

চট্রগ্রাম ওয়াসায় ৫৯,০৪৭টি বিলযোগ্য সংযোগ রয়েছে যার মধ্যে ৯২ শতাংশ আবাসিক ও ৮ শতাংশ অনাবাসিক সংযোগ। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব সাঈদ উর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানাগেছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন ওয়াসার পানির প্রতিটি ইউনিটের দাম ছিল মাত্র ছয় টাকা। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে গ্রাহক, বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতামত নিতে গণশুনানির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেই।

জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা ওয়াসার অধীনে জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪.৮ শতাংশ সেবাগ্রহীতা চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। ৫১.৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতার কাছে সরবরাহকৃত পানি অপরিষ্কার। ৪১.৪ শতাংশ সরবরাহকৃত পানি দুর্গন্ধযুক্ত। ঢাকা ওয়াসার সেবার মান ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সার্বিকভাবে ৩৭.৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতাই অসন্তুষ্ট।

মূল্যে বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ওয়াসা বলছে, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। সেই ঋণ পরিশোধ করার জন্যে পানির দাম বাড়ানো দরকার। এছাড়াও, সংস্থাটির পরিচালনা খরচ বেড়েছে।

২০১৭ সালে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পানির দাম যথাক্রমে ২২ এবং ১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়ে ছিল। ওয়াসা আইন-১৯৯৬ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, ওয়াসা বোর্ড পানির দাম বার্ষিক পাঁচ শতাংশ হারে বাড়াতে পারে। গত বছরও সংস্থাটি মুদ্রস্ফীতির কথা বলে পাঁচ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে।

নগরবাসী বলছে, পানির দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়বে নগরবাসীর ওপর। পানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়ীওয়ালারা বাড়ী ভাড়া বাড়িয়ে দেবে। এতে পিষ্ঠ হবে স্বল্প আয়ের মানুষ।

জানতে চাইলে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ওয়াসার সামগ্রিক সেবার মান ভালো না। কিছু জায়গায় তাদের সেবা ভালো হলেও বেশিরভাগ জায়গায়, বিশেষত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাদের সেবার মান খুব খারাপ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবছর পানির দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ