আওয়ার ইসলাম: ‘পারিপার্শ্বিক কিছু কারণ’ উল্লেখ করে এ বছরের সব মাহফিল স্থগিত করছেন বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তাই মার্চ পর্যন্ত তার বাকি প্রােগ্রামগুলাে আর করছেন না তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লিখেন আজহারী।
এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে ‘জামায়াতের প্রােডাক্ট’ আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মাে. আবদুল্লাহ। পরদিন সেই বক্তব্যের জবাব দিয়ে স্ট্যাটাস দেন আজহারী। তিনি বলেন, আমি কোন দলের এজেন্ট বা প্রােডাক্ট নই। আর কোন রাজনৈতিক দলের অর্থায়নে আমার শিক্ষা জীবনও কাটেনি। মিথ্যাচার যেন এদেশে মহামারিতে রুপ নিয়েছে। আর সেটা যখন প্রকাশ্যে, গণমাধ্যমে, দেশের কোন উচ্চ পদস্থ দায়িত্বশীলের মুখ থেকে প্রকাশ পায়, তখন আফসােস আর হেদায়েতের দোয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।
নিজের চিন্তা আর মতের বিরুদ্ধে গেলেই এদেশে একটা স্বস্তা ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়। আর সেটা হল ‘জামাত শিবির। এবার আপনি মুক্তিযােদ্ধার সন্তান হােন অথবা মনেপ্রাণে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হােন। দ্যাট ডাজেন্ট মেটার। ভিন্নমতকে দমনের এই অপকৌশল পুরাে জাতির ভাগ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এরপর আজ দুপুরে স্ট্যাটাস দেন আজহারী। তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলাে
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ--
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বােনেরা
পারিপার্শ্বিক কিছু কারণে, এখানেই এবছরের তাফসির প্রােগ্রামের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই, মার্চ পর্যন্ত আমার বাকী প্রােগ্রামগুলাে স্থগিত করা হল। রিসার্চের কাজে আবারো মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্দুল আলামিন সুযােগ করে দিলে, আবারও দেখা হবে ও কথা হবে কুরআনের মাহফিলে ইনশাআল্লাহ।
এবছর বেশীর ভাগ প্রােগ্রামগুলােতেই পারিবারিক ও সামাজিক ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেছি, পাশাপাশি কয়েকটি সূরার ৩াফসিরও করেছি। আশাকরি, আলােচনা গুলাে থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। পরিবারের সবাই মিলে আলােচনাগুলাে শুনুন এবং কথাগুলাে বাস্তব জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে, আমাদের পরিবার ও সমাজ সুখময় এবং শান্তিময় হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
আমি একজন নগন্য মানুষ। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ছাত্র। কুরআনের ছাত্র হয়েই বেঁচে থাকতে চাই ও নিরলস কাজ করে যেতে চাই। তাই সুপ্রিয় শ্রোতাদেরকে বলব, প্লিজ আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করবেন না। আমাকে জড়িয়ে কোন ব্যাপারে কাউকে গালাগালি করবেন না, অন্য কোন মতাদর্শের আলেমদেরকে হেয় বা ছােট করে কিছু বলতে যাবেন না। যদিও তাদের কেউ কখনাে আমাকে ছােট করে কথা বলে। অনুরুপ ভাবে, কোথাও আমাকে ডিফেন্ড করে তর্ক বা কমেন্ট করতে চাইলে, ভদ্রতা বজায় রেখে, যৌক্তিক ভাবে এবং বিনয়ের সাথে সেটা করুন। সত্য একদিন উন্মোচিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।
অপ্লিাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে, দেশের আপামর জনতার যে ভালােবাসা পেয়েছি, জানিনা সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝড়ালে এবং কোন ভাষায় শােরগােজার হলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে। মালিকের দরবারে আলীশানে লাখাে কোটি শুকর এবং সুজুদ। ওয়ালহামদু লিল্লাহি আলান্নি আমি।
প্রােগ্রামগুলাে বাস্তবায়নে যারা সার্বিক সহযােগিতা করেছেন, তাদের সবার জন্য রইল আন্তরিক ভালােবাসা ও দোয়া।
বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রােগ্রামগুলাে সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা উওম প্রতিদান দান করুক।
আমার এ জীবনের ছােট্ট অভিজ্ঞতায় যা দেখলাম, সেটা হল আমরা আমাদের জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়ে দেই অন্যকে হিংসা করতে করতে। নিজের কাজ না করে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে আমরা মহা ব্যস্ত।
আসলে, অপপ্রচার করে তেমন কোন লাভ নেই। অপপ্রচারে আমি কখনাে মনঃক্ষুন্ন হইনা। আমার বিশ্বাস আপনারাও হবেন না। কারন অপপ্রচারগুলােই আমাদের প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেছে আলহামদুলিল্লাহ। হকের পথে বাঁধা, বিপওি আসবেই। এটাই স্বাভাবিক। যে পথে কাঁটা নেই সেটা পথ নয়, সেটা কার্পেট। আর কার্পেটে হেটে মজলিশে পৌঁছানাে যায়, মঞ্জিলে নয়। মন্তব্য কখনাে গন্তব্য ঠেকাতে পারেনা। তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ”
-এটি