আওয়ার ইসলাম: সরকার শাহীনবাগে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) বিরোধীদের সাথে কথা বলতে প্রস্তুত। এটি কাঠামোগত আকারে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন, ভারতের আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।
আজ (শনিবার) সকালে আইনমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় এসংক্রান্ত মন্তব্য করেছেন।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘সরকার শাহীনবাগের প্রতিবাদকারীদের সাথে কথা বলতে প্রস্তুত কিন্তু এই সংলাপটি কাঠামোগত আকারে হওয়া উচিত এবং নরেন্দ্র মোদি সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ করতে ও ‘সিএএ’র বিরুদ্ধে তাদের সমস্ত সন্দেহ দূর করতে প্রস্তুত।’
গত ৪৫ দিন ধরে দিল্লির শাহীনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীরা ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। অনেক রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও সুশীল সমাজের মানুষজন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা ওই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক কুৎসিত মন্তব্য করেছেন। এমতাবস্থায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপির সিনিয়র নেতা ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর দেওয়া সংলাপের বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এরআগে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদই বলেছিলেন, ‘দিল্লিতে যারা শান্তিতে বাস করতে চান, সেই সংখ্যাগরিষ্ঠর অধিকার হনন করছেন শাহীনবাগের প্রতিবাদীরা।’ তার দাবি, ‘শাহীনবাগের কয়েকশো লোক চেষ্টা করছে সংখ্যাগরিষ্ঠ শান্তিকামী মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে।
এটাই শাহীনবাগের আসল রূপ। যেটা গোটা দেশের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে। এ ব্যাপারে রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এই নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, বিরোধীদের ছত্রছায়ায় ওই প্রতিবাদ সভা চলছে। এখন এটা আর ‘সিএএ’ বা ‘এনআরসি’ বিরোধী আন্দোলন না। এটা এখন নরেন্দ্র মোদি-বিরোধী আন্দোলন।’
বিজেপি নেতা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ‘নারী ও শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ বিজেপি’র মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্রের দাবি, শাহীনবাগে নারীদের ‘মগজ ধোলাই’ করছে কংগ্রেস এবং অন্যরা।
বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছিলেন, এভাবে অবস্থান বিক্ষোভ চালানোর বিনিময়ে ৫০০/৭০০ টাকা পাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।এরপরেই আইনি নোটিশ পাঠানোসহ আন্দোলনকারীরা এক কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের বিরুদ্ধে।
বিজেপি সংসদ সদস্য সুভাষ সরকার দিল্লির শাহীনবাগ ও কোলকাতার পার্ক সার্কাসের আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে বলেন, ‘শাহীনবাগ বা পার্ক সার্কাসে শুধু অনুপ্রবেশকারী এবং তাঁদের দোসর মুসলমানেরাই বসেছেন। ওখানে সাধারণ মানুষ কেউ নেই।’
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এমপি সম্প্রতি শাহীনবাগ-পার্ক সার্কাসের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষে বলেছিলেন, পার্ক সার্কাস, শাহীনবাগে যাঁরা আছেন, এত ঠাণ্ডায় কী করে আছেন? মরেও না তো কেউ? অথচ নোট বাতিলের সময় ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়েই কত লোক মরে গেল!
তিনি বলেন, ‘শাহীনবাগে রাতে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নারী ও শিশুরা বসে থাকছে। কেউ মরছে না! কী অমৃত খাচ্ছে ওরা? কোথা থেকে টাকা আসছে আমরা বার করবই।’
বিজেপি নেতাদের এমন বিরূপ আপত্তিকর ও শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য সত্ত্বেও অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শাহীনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপে বসার বার্তা দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-এটি