মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৬ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত সৌদি, অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান স্বাস্থমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সৌদি আরবে স্বাস্থমন্ত্রী তাওফিকুর জানান, সৌদি আরব করোনা ভাইরাসের শঙ্কা থেকে মুক্ত আছে। এর আগে একজনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার থবরকে নাকচ করে দিয়ে তিনি এ কথা জানান। অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বানও করেন তিনি।

আল-আরাবিয়ার ডটনেটের বরাতে জানা যায়, সৌদি আরবের স্বাস্থমন্ত্রী তওফিকুর রবিয়া সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে বলেন, তাদের কোনও নাগরিক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদ মিথ্যা প্রচার বলে উল্লেখ্য করেন তিনি।

সম্প্রতি চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করোনা ভাইরাস। দেশটিতে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আর সেখানে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার জন। চীন ছাড়াও ২৩টি দেশে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই চীনের উহান শহর থেকে নিজ দেশে ফিরেছিলেন। সর্বশেষ সৌদি আরবের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি হাসপাতালে কর্মরত এক ভারতীয় নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু সৌদি এটা অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।

সৌদি আরব এই দাবি অস্বীকার করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের দেশে করোনো ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। সৌদি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার কেন্দ্র এক টুইট করে জানায়, এখন পর্যন্ত নোভেল করোনা ভাইরাসের কোনও লক্ষ্মণ তারা খুঁজে পাননি।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেই রোগীর কথা বলা হয়েছে তিনি আসলে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রম (মার্স) রোগে আক্রান্ত। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তারা জানান, সরকার বৈশ্বিক এই ইস্যু নিয়ে সবধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। চীন থেকে আসার প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বলেও জানায় সৌদি সরকার।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এক জরুরি বৈঠকের পর সংস্থাটির তরফ থেকে এই ঘোষণা আসে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পেছনে কারণ হিসেবে, ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এবং এটি এখন শুধু চীনের উদ্বেগের বিষয় নয় বরং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগত দশকে পাঁচটি আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। ২০০৯ সালে এইচওয়ান সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জন্য, ২০১৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব, ২০১৪ সালে পোলিও, ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস এবং ২০১৯ সালে আবারও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জন্য।

আল-আরাবিয়া থেকে আবদুল্লাহ তামিমের অনুবাদ

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ