আওয়ার ইসলাম: দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেনো ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ) ও কাউন্সিলর (পরামর্শক) নিয়োগ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদলত।
আজ রোববার এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান আদেশে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনটির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট অমিত তালুকদার।
শুনানি শেষে আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, ইভটিজিংসহ সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন করণে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে।
দিন দিন মানসিক বিকৃতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই তাদের এসব থেকে রক্ষা করার জন্য দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সিলর নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।এর আগে গত ২৪ নভেম্বর ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া নিজেই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন।
আবেদনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সিলর নিয়োগে না দেওয়া দেশের সংবিধানের ১৭ (ক ও খ), ১৮ (১ ও ২) ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের উপযুক্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
রিট আবেদনে আরো বলা হয়, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের সুস্বাস্থ্য ও মানসম্পন্নভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করবে। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সে সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। তাই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক ও মনোবিদ নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
-এটি