আওয়ার ইসলাম: ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, দফতর সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তুর্য।
তিনদিনের রিমান্ড শেষে আজ (শনিবার) আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে আসামিপক্ষে জামিন আবেদন করা হয়।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাগর মিয়া বলেন, আসামিদের কাছ থেকে রিমান্ডে কোনো তথ্যই পায়নি পুলিশ। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিসিএস পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ তারিখ। ফরম পূরণ করতে না পারলে আসামিদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। আসামিরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। জামিন দিলে তারা পলাতক হবেন না।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর দুপুরে ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভিপি নুরসহ তার সহযোগীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নুরসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২৪ ডিসেম্বর মামলাটি করে।
মামলায় আট আসামির নাম উল্লেখ করে তাতে মোট ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওই দিনই আদালত ওই তিন আসামির তিনদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান সরদার মামলাটি তদন্ত করছেন।
গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মইনুল ইসলাম এই তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠান।
প্রসঙ্গত, ২২ ডিসেম্বর ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের রুমসহ ডাকসু ভবনে ভাঙচুর চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এসময় নুরসহ আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় পরদিন ২৩ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্যসহ তিনজনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডাকসু ভিপিসহ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় ২৪ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রইচ উদ্দীন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি এ এস এম সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, এ এফ রহমান হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসিম উদ্দিন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ (হল থেকে অস্থায়ী বহিষ্কৃত), জিয়া হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মাহিম ও মাহবুব হাসান নিলয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।
পরে আল মামুনসহ আটক তিনজনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়
-এএ