বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৪ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৯ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :

গবেষণা লাইব্রেরিতে না রেখে জনকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মুহা. আব্দুল হামিদ বলেছেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সফল গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান মানবজাতির অশেষ কল্যাণ বয়ে আনতে পাবে। চিকিৎসাসহ জীবনমান সহজ করতে পারে। এমনকি বিশ্বরাজনীতি, ভূ-অর্থনীতি, বিশ্ববাণিজ্য, আঞ্চলিক বা দেশীয় আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রোববার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গবেষণা যাতে আন্তর্জাতিক মানের হয় এবং জীবনমুখী ও মানবকল্যাণে নিবেদিত হয় সেদিকে সবিশেষ নজর দিতে হবে। গবেষণার ফল যাতে লাইব্রেরিতে বন্দি না থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মূল্যবোধ লালন, নীতি-নৈতিকতা, দেশপ্রেম উৎসারিত করার শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে যুক্তি ও সত্যের অনুসন্ধান, নতুন জ্ঞান সৃজন এবং মানবকল্যাণে তার ব্যবহার প্রযুক্তির উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা নিরসনসহ দেশ ও জাতি নির্বিশেষে মানবজাতির ভবিষ্যৎ পথের নির্দেশনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও অর্জন জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করে, জাতীয় জীবনে উদ্যম ও গতিশীলতা সৃষ্টি করে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রত্যাশিত সংবাদ ও ঘটনা জাতির মননে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবতর শাখার বিকাশ ঘটিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

আবদুল হামিদ জানান, আদর্শ শিক্ষক-গবেষক জাতির মূল্যবান সম্পদ, অনুসরণীয় আদর্শ। শিক্ষক-গবেষকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা ভবিষ্যৎ জাতি গঠনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী শিক্ষকমণ্ডলী, যারা নিজেরা নিরন্তর সর্বশেষ জ্ঞানচর্চায় রত থেকে সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন।

তিনি বলেন, শিক্ষক যখন তার মহান আদর্শ থেকে দূরে চলে যান, তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণে শিক্ষকরা নিবেদিত থাকবেন জাতি তা প্রত্যাশা করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, খুলনা অঞ্চলে রয়েছে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবন ও সামুদ্রিক সম্পদ সমৃদ্ধ বিশাল উপকূল। আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় মূল্যবান সম্পদ বিষয়ে গবেষণায় অধিক মনোনিবেশের আহ্বান জানাই।

‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্পেনের সিগমো ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস পরিচালিত জরিপে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ের তালিকায় প্রবেশ করে এ বছর দেশের মধ্যে উদ্ভাবনীতে প্রথম ও গবেষণায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের রাইঙ্গামারী গ্রামকে ল্যাবরেটরি ভিলেজ করা হয়েছে। এ জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’

গ্র্যাজুয়েটদের তিনি বলেন, তোমরা আজ গ্র্যাজুয়েট, দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতাকে জাতির বৃহত্তর কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত উত্তরসূরী তোমরা। তোমরা এ দেশকে এগিয়ে নেবে সুন্দর আগামীর পথে, সমৃদ্ধির পথে।

তিনি গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষিত করে। অনেক সময় দেখে মনে হয় দেশটা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ, সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর ড. অনুপম সেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ও স্বাগত বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ।

উল্লেখ্য, খুবির ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে ৪ হাজার ৪৭৮ জনকে স্নাতক, ২ হাজার ৫৩০ জনকে স্নাতকোত্তর, ৫ জনকে এমফিল ও ৮ জনকে পিএইচডি এবং ১৭ জনকে পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন ডিগ্রি দেয় হয়।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের (অনুষদ) পরীক্ষার ফলাফলে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ২৩ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল দেয়া হয়।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ