আওয়ার ইসলাম: সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৃতীয়বারের মত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সংলাপ। দু’দিন সংলাপের পরও কিছু না হওয়ায় মিয়ানমারকে দুষছেন রোহিঙ্গারা। আর প্রত্যাবাসনের নানা ধরনের পদক্ষেপের বিষয় রোহিঙ্গাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের প্রধান।
উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে দ্বিতীয় দিনের মতো মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপ করতে শীত উপেক্ষা করে ক্যাম্পে পৌঁছান ৩৪টি আশ্রয় শিবিরের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা। এরপর ক্যাম্পে আসে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। চলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংলাপ।
সংলাপ শেষে ক্যাম্প ইনচার্জের কক্ষ থেকে যখন বের হন তখন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের চোখে মুখে ছিল হতাশার ছাপ। তাদের অভিযোগ, প্রত্যাবাসন ইস্যুতে সংলাপ করতে নয়, তালবাহানা করতেই মিয়ানমার প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসেছে।
রোহিঙ্গারা বলেন, তারা আমাদের সাথে ধোঁকাবাজি করার জন্য এসেছে। রোহিঙ্গা হিসেবে মেনে নিলে আমরা স্বদেশে ফিরে যাবো।
প্রত্যাবাসনের ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে নানা ধরনের পদক্ষেপের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানালেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের প্রধান।
মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক বিভাগের মহা-পরিচালক ছেন অংয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি উন্নয়নে আমাদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা রোহিঙ্গাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ তাদের উপর নির্ভর করছে। এটি কোন পলিটিকাল ডায়লগ ছিলো না এটি এক ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠান। যেখানে আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের উদ্বেগের কথা বুঝার চেষ্টা করেছি।
আর স্থানীয়দের মতে, রোহিঙ্গাদের নিজদেশে ফেরাতে মিয়ানমারের এই সংলাপ লোক দেখানো। তবে চীন ও ভারত চাইলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য মিয়ানমার।
প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দু'দিনের এই সংলাপে মিয়ানমারের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি আসিয়ান প্রতিনিধি দলের ৭ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আরএম/