আওয়ার ইসলাম: ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ২০১৯-এ বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে উল্লেখ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বুধবার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তারা বলেন, “ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ২০১৯ ও নাগরিকপঞ্জি ভারতের একান্ত নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও তাতে অযাচিত ও অযৌক্তিকভাবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কাতারে রেখে বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে উল্লেখ করা, ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে অমুসলিম নাগরিকদের ভারতে যাওয়ার বিষয় উল্লেখ করা ,আসামে নাগরিকপঞ্জিতে আসামের অধিবাসী ভারতীয় কয়েক লক্ষ নাগরিককে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”
জাসদ নেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “১৯৭১ সালের পর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে অভিবাসন করেননি। বর্তমানে কোনো কারণেই বাংলাদেশের কোনো নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে বসবাসও করছেন না।”
জাসদ বলছে, “বাংলাদেশ আশা করে, ভারত সরকার ও কর্তৃপক্ষ ভারতের কোনো নাগরিক বা ভারতের কোনো অধিবাসীকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে চিন্থিত করে তাদের বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়া বা পুশ-ইন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না।
“এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি-অবিশ্বাসের বীজ বপন করতে পারে।”
জাসদ নেতাদের মতে, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জাতিগত, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় কারণে বৈষম্য সৃষ্টি হলে কোনো বিরোধ-উত্তেজনা-সংঘাত-নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তা খুব সহজেই সেই দেশের সীমান্ত অতিক্রম প্রতিবেশী দেশে অভিঘাত সৃষ্টি করতে পারে।”
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকার, কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক দলসমূহের জাতিগত, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় বিষয়ে এমন কোনো রাজনৈতিক অবস্থান ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন জাসদ নেতারা।
আরএম/