মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


মিয়ানমারের ৪ সেনা কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ চার সামরিক কর্মকর্তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তারা হলেন- মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং, সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উইন, ৯৯ লাইট ইনফানট্রি ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও এবং ৩৩ লাইট ইনফানট্রি ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার এই চার সেনা কর্মকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে। এমনকি তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবসায়ী কার্যক্রম চালাতে পারবেন না মার্কিন নাগরিকরা।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুনানি চলছে। রোহিঙ্গাদের শান্তির সন্ধানে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় বিচারের শুনানি শুরু হয়। মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়ে মামলাটি করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালিয়ে মিয়ানমার বৈশ্বিক সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না, তার বিচারই আইসিজের এই শুনানির উদ্দেশ্য। আদালতের কার্যক্রম আজকের মতো মুলতবি করা হয়েছে। আজ বুধবার মিয়ানমার তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে। বৃহস্পতিবার সকালে গাম্বিয়া এবং বিকেলে মিয়ানমার প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন ও চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করবে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি টিম ছাড়াও মানবাধিকার কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত রয়েছেন। শুনানিতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষে না থাকলেও গাম্বিয়াকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করছে। মামলার শুনানি উপলক্ষে হেগ শহরে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার ছাড়াও অন্য কয়েকটি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা হাজির হয়েছেন।

মামলায় গাম্বিয়াকে সমর্থন দিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) কূটনীতিকেরাও উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী এবং মিয়ানমার সরকারের সমর্থকেরাও উপস্থিত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হলেন সোমালিয়ার বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট চীনের বিচারপতি ঝু হানকিন। বিচারকদের নির্বাচন করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ।

অন্য সদস্যরা হলেন— স্লোভাকিয়ার বিচারপতি পিটার টমকা, ফ্রান্সের বিচারপতি রনি আব্রাহাম, মরক্কোর মোহাম্মদ বেনুনা, ব্রাজিলের আন্তোনিও আগুস্তো কানকাদো ত্রিনাদে, যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ান ই ডনোহু, ইতালির গর্জিও গাজা, উগান্ডার জুলিয়া সেবুটিন্দে, ভারতের দলভির ভান্ডারি, জ্যামাইকার প্যাট্রিক লিপটন রবিনসন, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড ক্রর্ফোড, রাশিয়ার কিরিল গিভরগিয়ান, লেবাননের নওয়াফ সালাম এবং জাপানের ইউজি ইওয়াসাওয়া।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ