আবদুল্লাহ তামিম: দেশের ধর্মপ্রাণ লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সুন্নাতের আলোচনায় চলছে মজলিসে দাওয়াতুল হকের ২৫তম কেন্দ্রীয় ইজতেমা। ইজতেমায় উপস্থিত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আজ শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়ায় (যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসা) দিনব্যাপী এ ইজতেমা শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইজতেমায় বলেন, এ যে এতবড় মজমা, আল্লাহর টান আর মুহাব্বত না থাকলে এটা সম্ভব হবে না। আমি হজরতকে অনেক মুহাব্বত করি। তিনি অনেক বড় আলেম, আল্লাহওয়ালা।
তিনি আমাকে এখানে আসতে বলেছেন, আমি এসেছি, কেনো আসবো এটা বলেননি তিনি। আমি এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ। নি:সন্দেহে আপনারা ইসলামকে ভালোবাসেন।
আজকে এখানে যা আলোচনা হচ্ছে সত্যিই অসাধারণ জ্ঞান। আমরা সালাম দেই স্লামালাইকুম। অথচ আসসালামু আলাইকুম না বললে হবে না। এগুলো শিখতে হলে এ ধরণের মজলিসের তুলনা হয় না।
আমি যতবারই আসি,ততবারই নতুন কিছু শিখি, এজন্য আমি তারপ্রতি কৃতজ্ঞ। আজকে এ ধরণের আলোচনা আমাদের ইসলামের শান্তির বাণী ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের দেশের হাটহাজারী মাদরাসার বড়ু হুজুর, আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব আমাদের দেশের জন্য গর্ব।
আজ আল্লাহমুখি হয়েছে আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষ, এটার মূল কারণ আপনারাই। আজ মানুষ মসজিদ মুখি হচ্ছে এটাও আপনাদের অবদান। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে মানুষ হত্যা দূরে থাকুক গাছের ঢাল অযথা ভাঙ্গাও ঠিক বলে না।
আজ এদেশের যারা কওমি মাদরাসায় পড়ছে, সুন্নাতের দাওয়াত দিচ্ছে তারা কখনো জঙ্গী ও সন্ত্রাস হতে পারে না। অনেক জঙ্গীর বাবা মা আসেনি তাদের কাফন দাফন করতে। আমাদের আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাদের শেষ কাজ করেছি।তাই ইসলাম ও মানুষ জঙ্গী সন্ত্রাসকে ঘৃণা করে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইজতেমায় বাদ মাগরিব উপস্থিত হলে মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান দাওয়াতুল হকের কী কাজ সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কর্মপন্থা কী সেগুলো সম্পর্কেও আলোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার প্রাণের মানুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তার মাধ্যমে আল্লাহ পাক আমাদের দেশের বড় বড় দীনের কাজ করিয়েছেন। দাবলিগের সংকট সমাধানে ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি গত বছর সুন্নতের ইজতেমা থেকে ঘোষণা করেছেন কওমি মাদরাসায় কোনো জঙ্গীবাদ নেই। এখানে সন্ত্রাসবাদ শিখানো হয় না। আজ তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন, আমরা শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।
তিনি আরো বলেন, ইজতেমা উপলক্ষ্যে সুন্নতের আমলি মশক, দেশ-বিদেশের আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান, জিকির এবং দুয়া-মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মজলিসে দাওয়াতুল হক মহানবী সা. এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নত চর্চার একটি বিশেষ কেন্দ্র। দেশব্যাপী সাধারণ মানুষদের আজান, ইকামত, নামাজ, ওজু, জানাজাসহ সুন্নতের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ হয়।
উল্লেখ্য, ১৩৫৮ হিজরীতে হযরত থানভী রহ.-এর দূরদর্শী এবং বৈপ্লবিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও শুদ্ধি অভিযানের আলোকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিভ্রান্ত সমাজের পরিশুদ্ধি এবং অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সঠিক দিক নির্দেশনা ও পাথেয় হিসেবে ‘মজলিসে দাওয়াতুল হক’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি, ইহকাল ও পরকালের মুক্তি এবং নাজাতের উপায় হচ্ছে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের অনুকরণ ও অনুসরণ। সমাজের সর্বস্তরে সুন্নত প্রতিষ্ঠা, বিদআত এবং মুনকারাতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আমাদের পূর্বসুরী মনীষীগণ এই উপায় অবলম্বন করেই পরম সফলতা অর্জন এবং আদর্শ জীবন গড়ায় সক্ষম হয়েছেন। সুতরাং সার্বিক সফলতার জন্য আমাদেরকেও তাদেরই পাদঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই।
হযরত থানবি রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতুল হক মূলত মানবতার উৎকর্ষ সাধনে একটি নির্দেশনা ও পাথেয়। মুসলিম উম্মাহর হেদায়েতের জন্য রচিত অগণিত বই পুস্তকে আর বিশেষত দাওয়াতুদ্দায়ী, তাফহীমুল মুসলিমীন, তানজীমুল মুসলিমীন এবং হযরত মুহিউস সুন্নাহ রহ. রচিত আশরাফুন্নেজামে দাওয়াতুল হকের বিস্তারিত কর্মসূচী বিদ্যমান রয়েছে।
মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী শিরোনামে বাংলা ভাষায় দাওয়াতুল হকের কর্মসূচী প্রকাশ করা হয়েছে এবং সে অনুপাতে এদেশেও কার্যক্রম চালু রয়েছে।
-এটি