শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :

ফেসবুক সারাদেশের মানুষকে ধংস করছে: আল্লামা মাহমুদুল হাসান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: দাওয়াতুল হকের ২৫তম ইজতেমায় আখেরি বয়ানে মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, আজকাল ফেসবুক সারাদেশের মানুষকে ধংস করে দিয়েছে। এমনকি মাদরাসা ছাত্র ইমাম খতিব নারী পুরুষ সবাইকে ধংস করে দিচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধংসাত্মক মরণব্যাধী ফেসবুক থেকে হেফাজত করুন। শয়তান এটার মাধ্যমে আমাদেরকে নেক সুরুতে ধোকা দিচ্ছে।

বয়ানে তিনি আরো বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আমাদের সামনে আয়নার মত তাদের জীবনকে রেখে গেছেন। তাদের থেকেই, তাদের জীবন থেকেই আমরা রাসুলের আদর্শ দেখতে পাই।

মুসলিম মুসলিমদের ভাই। এক মুসলমান যখন আরেকজন ভাইকে সাহায্য করে তখন আল্লাহও তাকে সাহায্য করেন। অনেক কুরআনের ভুল অর্থ করেন, কারণ কুরআন হাদিস বুঝতে হলে তাকে ২৫টা জ্ঞানে পারদর্শী হকে হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নাহু সরফ।

যদি তোমরা আল্লাহকে সাহয্য কর আল্লাহ তোমাকে সাহয্য করবেন। তোমাদের পাকে মজবুত করে দিবেন। তুমি যদি সমাজপতি হও, রাষ্ট্রপতি হও যেই হও, তুমি দীনকে সাহায্য করলে তোমাকে আল্লাহ সাহায্য করবেন। দীনকে সাহায্য করার অর্থ হলো আল্লাহকে সাহায্য করা।

ইলমই হলো দুনিয়ারসবচেয়ে বড় নেয়ামত। ইলমের বড় সম্পদ হলো সুন্নত। হেকমত কী? হেকমতের সবচেয়ে বগ পর্যায় হলো সুন্নাত। হজরত হারদুই মরহুম আমাদের শিখিয়েছেন।

জান্নাতমে কেসা জানা হে? ইজ্জতকে সাত ইয়া লাজ্জাতকে সাত? তোমরা জান্নাতে কিভাবে যেতে চাও? সম্মানের সঙ্গে না বেজ্জতের সঙ্গে। আমাদের তাড়াতাড়ি জান্নাতে পৌছিয়ে দাও। নেক্কারের আত্মা মৃত্যুর পর এভাবে বলতে থাকে। আর আমরা শুধু শুধু রজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে তাদেরকে কষ্ট দেই।

আমাদের বাবা-মা নেক্কার ছিলেন, তারা ইবাদত করতো, কিন্তু আমরা ইবাদত করি না। তাদেরকে দেখতাম তারা তাহাজ্জুত পড়ে, কিন্তু আমরা পড়ি না। এজন্য সবকিছু শিখতে শিক্ষক লাগে। শিক্ষক ছাড়া ইলম অর্জন সম্ভব নয়। অনেকে বাংলা কুরআন পড়ে নিজেদের মহাপণ্ডিতভাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নাতের পথ ধরে ইজ্জতের সঙ্গে জান্নাতে যাওয়ার তাওফিক দান করুন।

তুমি যদি কোনো মানুষকে একটা সুন্নাত শিখাও সে তোমার জান্নাতে যাওয়ার উপায় হয়ে যেতে পারে। এজন্য আমাদেরকে সাধারণ মানুষকে দীনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আমাদের দেওবন্দের আকাবিরদের কাজের কারণে আজ সারা দুনিয়ায় দীনের আওয়াজ চলছে। তিনি টাকার জন্য করতেন না, করতেন দীনের জন্য। আমরাও আল্লাহর জন্য করতে হবে। তাহলে টাকা পয়সা আমাদের পায়ের নীচে চলে আসবে। আর টাকার পিছনে পড়লে টাকা তো আসবেই না বরং তাকে এ অর্থ-কড়ি আর ক্ষমতার মোহ লাঞ্চিত অপমানিত করবে।

তুমি যদি সুন্নাতের পথে চল, তাহলে তোমার পথ তোমার জীবন তোমার রাস্তা, তোমার আশা সব আল্লাহর জন্য হয়ে যাবে।

পর্দা মত জীবন পরিচালনা করা আজকের পৃথিবীতে মেয়েদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পর্দার খেলাফ হবে তাই নামাজ আদায় করতে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতে নিষেধ করেছেন রাসুল সা.।

রাসুল সা. নারীদের পর্দা লঙ্ঘণ হবে দেখে ঘরে নামাজ আদায় করতে বলেছেন। কেউ যদি আসতে চায় তিনি বলেছেন, তোমার স্বামী ভাই বা বাবাকে জানাও।

তারা যদি মনে করে মসজিদে আসা তোমার জন্য নিরাপদ তাহলে তারা তোমাকে নিয়ে আসবে বা অনুমতি দিবে। আর আজকাল তো নিরাপত্তার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের প্রতিটি জায়গায় নির্যাতিত হচ্ছে নারী। তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাই পর্দার বিষয় খুব গুরুত্ব দিতে হবে।

আজকাল মাদরাসাসমূহ খুব হেকমতের সাথে পরিচালনা করতে হবে। আজকাল মানুষ মাদরাসায় আসতে চায় না। যারা আসে তাদের যদি আমরা পিটিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই হবে না। অনেকে বলে রাগ ওঠেছে দেখে মেরেছি। রাগ ওঠলে তো মারা নিষেধ।

আমাদের আদর্শ ছিলো আকাবিরে দেওবন্দ। পীর কেমন তার মুরিদ দ্বারা বুঝা যায়। হজরত থানভি রহ. বলেন, সাথির দিকে তাকালে সাথি বুঝা যায়। একবার আশরাফ আলী থানভির বিরুদ্ধে একদল গালাগালি করছিলো। তিনি কাফের এমনও বলছিলো।

হজরত থানভি রহ. তাদের মিটিং এ গিয়ে স্টেজে ওঠে বললেন, মাই আশরাফ আলী হু, মাই কালিমা পড়াতা হু আশহাদু আল্লাহ ইলাহা..... তখনকা কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে খুব সম্মান করা হতো। কোলাকোলি করা হতো। চুমা দেয়া হতো।

তখন সেখানে স্লোগান শুরু করে দিলো আশরাফ আলী মুসলিম হয়ে গেছে। তারা থানভি রহ. কে জড়িযে ধরলো। এভাবে তারা যাকে গালি দিচ্ছিল তাকে গলায়ে টেনে নিলো। এভাবে আমাদের আকাবিররা দাওয়াতের কাজ করেছেন হেকমতের সঙ্গে।আমাদের হেকমতের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সাহাবায়ে কেরামের যুগে এক কাফের মসজিদে পেশাব করে দিলো। সাহাবায়ে কেরাম রাগে অগ্নিষর্মা। তিনি তাদেরেকে বললেন তাকে পেশাব করতে দাও। পেশাব শেষ হলে তাকে ডেকে বললেন, এটা আমাদের ইবাদতের জায়গা এখানে পেশাব করা যায় না।

এ হলো নববি আদর্শ। আজ আমরা জুতা নিয়ে মসজিদে যাই। জুতার মধ্যে নানান ময়লা থাকে। একটা থইলা রাখলে মসজিদ পবিত্র থাকে। ছোট ছোট এ বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে।

মজলিসে দাওয়াতুল হকের কাজ হলো মশক করা। বেশি বেশি মশক করা। কিরাত শুদ্ধ হচ্ছে কি না, তাশাহহুদ শুদ্ধ হচ্ছে কি না। তোমার কাজ হলো আমলটা সুন্নাত মুতাবেক হচ্ছে কি না সেটার প্রতি খেয়াল রাখা।

নামাজ এমন একটা আমল সেটাতে সারা শরীরের পুরোটা অংশ লাগে। কলিজা আত্মা দিল, আল জিব্বাহ, মুখ নাক হাত পা পেট সব এ ইবাদতে লিপ্ত হয়। তো আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে আমাদের নামাজ সুন্নাহ মুতাবেক হয়েছে কিনা।

একবার নবি সা. কে বললেন, হে নবিয়াল্লাহ আমার নামাজে মন এদিক সেদিক চলে যায়, আমার নামাজ হয়েছি কি? তিনি বললেন তোমার তো ডবল সাওয়াব হয়েছে। তুমি নামাজের সাওয়াব পেয়েছ আবার মনকে নামাজে ফিরিয়ে আনারও সাওয়াব দান করেছেন।

দুইটি জিনিস আমাকে মনে রাখতে হবে, এক. সব কাজে সুন্নাহ মুতাবেক করা। দুই, ইখলাসের সঙ্গে করা।

ছাত্রদের জন্য  বলছি, সমাজের অবস্থা খুবই খারাপ। আজ আমরা মাদরাসায় থেকেও তাহাজ্জুত পড়তে পারি না। তোমরা আমাদের নাজাতের উসিলা। আমরা চাই তোমরা আশরাফ আলী থানভি হয়ে যাও, তোমরা মাদানী হয়ে যাও।

আজকাল ফেসবুক সারাদেশের মানুষকে ধংস করে দিয়েছে। এমনকি মাদরাসা ছাত্র ইমাম খতিব নারী পুরুষ সবাইকে ধংস করে দিচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ধংসাত্মক মরণব্যাধী ফেসবুক থেকে হেফাজত করুন।

শ্রুতি লিখন- আবদুল্লাহ তামিম

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ