শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৩ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :

ভোলায় মুসল্লিদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিল প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ভোলায় আল্লাহ ও রাসূল সা.কে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় মুসল্লিদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। সোমবার বেলা ১১টায় দাবি মেনে নেয়ায় ‘সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। দাবিগুলো হলো- ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর, আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন ও সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা শান্তির্পূণ পরিবেশে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন যোক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ায় আজকের ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

এর আগে রোববার রাতে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনের এমপি আলী আজম মুকুল, বরিশাল পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. এনামুল হকসহ বিভাগীয় জেলার কর্মকর্তারা ‘তৌহিদি জনতা’র নেতাদের সঙ্গে বোরহানউদ্দিন থানায় মতবিনিময় সভায় বসেন। সেখানে নেতারা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

ছয় দফা দাবি হলো: ১. জেলা ও থানা থেকে এসপি এবং ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে, ২. ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দিতে হবে, ৩. আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, ৪. নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে, ৫. অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র শুভর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং ৬. গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়া কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ সাব্বির হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো উপজেলায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসাধীন। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কাউসার জানান, ফেসবুকে এ কটূক্তির ঘটনায় হিন্দু বিপ্লব চন্দ্র শুভ, মো. শাকিব ও লিমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নং ১৭) দেয়া হয়। এ মামলায় তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী স. কে ‘কটূক্তি’র জেরে রোববার তৌহিদি জনতার ব্যানারে ডাকা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ তাড়াতাড়ি শেষ করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। পরে পুলিশ ও বিক্ষোভে আগত তৌহিদি জনতার সংঘর্ষ হয়। এতে চার ব্যক্তি বুলেটবিদ্ধ হয়ে নিহত ও শতাধিক আহত হন।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদরাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ