শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৩ রজব ১৪৪৭


ভেজাল প্যারাসিটামলে ২৮ শিশুর মৃত্যুতে দুই কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ওষুধ প্রশাসনে আর চাকরি করতে পারবেন না রিড ফার্মার ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন।

আজ রোববার (১৩ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়ে এ দুই কর্মকর্তার চাকরিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় ঢাকার ড্রাগ আদালতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের রিড ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম। ওই মামলার রায়ে পাঁচ আসামির সবাই খালাস পেয়ে যান।

আদালতের ওই রায় আসার পরও ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি আবেদন করলে ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারি করেন।

ওষুধ প্রশাসনের ওই দুই কর্মকর্তাকে কেন চাকরি থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না-তা জানাতে চাওয়া হয় রুলে।

ওই রুলের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১১ জুলাই হাইকোর্টে ওই দুই কর্মকর্তার অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলে একটি প্রতিবেদন দাখিল হয়।

২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এ দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর চলতি বছরের ৩১ মার্চ ‘তিরস্কার’ করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। এরপর এ দুই কর্মকর্তা ফের চাকরিতে যোগ দেন।

এরপর ওই বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এইচআরপিবির আবেদনে একই বছরের ১৮ জুলাই বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

এরপর ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানতে চান হাইকোর্ট। পরে স্বাস্থ্য সচিব এক প্রতিবেদনে আদালতকে জানায়, ওই দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় নতুন একটি আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের মনজিল মোরসেদ।

-এটি


সম্পর্কিত খবর