বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ।। ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ল প্যান্ডেল সমঝোতা চুক্তির খসড়া দেখতে চায় ইসরায়েল, প্রত্যাখান যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে চাকরির বাজারে পতন, ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল চীনে শাপলা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের দায় অস্বীকার করল মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপা সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় ৩ শিশুর মৃত্যু সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, শ্রীমঙ্গলের পথে যাত্রা স্বপ্নে জীবিত দেখে মৃত্যুর ১৮ দিন পর কবর খনন, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ‘দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ার সময় এখনই’ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি  ‘ডিএনসিসি’র হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা: আয়োজক ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সেফটি ট্যাংক পরিস্কার করতে গিয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

খালেদ বিন মোস্তফা
ফরিদপুর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরব্রাহ্মনদী গ্রামে নিজ বাড়ির সেফটি ট্যাংকি পরিস্কার করতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চর ব্রাহ্মনদী গ্রামের মৃত রাশেদ হাওলাদারের পুত্র সৌদি প্রবাসী মোঃ মিরাজ হাওলাদার (৪৫) ও মিরাজের স্ত্রী চায়না বেগম (৩৫)।

স্থানীয়রা জানান, নিহত মিরাজ হাওলাদার সংসারের দরিদ্রতা দূর করতে প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরব যান। সেখানে আকামা’র মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশের হাতে আটক হন। গত দুই মাস পূর্বে প্রবাস জীবন থেকে একেবারেই দেশে চলে আসেন।

স্ত্রী চায়না বেগম সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ চৌরাস্তা গ্রামের কলম শিকদারের মেয়ে। প্রায় বিশ বছর আগে তাদের বিবাহ হয়। সংসার জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। নাম হৃদয় হোসেন। হৃদয় ফরিদপুর ইয়াছিন কলেজে পড়ালেখা করে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মিরাজ হাওলাদার তার বাড়ির ১০-১৫ ফুটের একটি মল মজুদ রাখার পাকা নতুন সেফটি ট্যাংকির ভিতর বাঁশ কাঠ সরিয়ে পরিস্কার করতে ট্যাংকির ভিতরে প্রবেশ করেন।

সেফটি ট্যাংকির ভিতরে প্রবেশের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে চিৎকার দেন। তার চিৎকারে স্ত্রী চায়না বেগম স্বামীকে উদ্ধার করতে ওই ট্যাংকির ভিতরে প্রবেশ করেন। চায়না বেগম স্বামীকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও গ্যাস আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
পরে পিতা মাতার খোঁজ না পেয়ে তার ছেলে হৃদয় হোসেন (১৮) সেফটি ট্যাংকির কাছে গেলে বাবা মার করুন অবস্থা দেখতে পায়।

পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের কে ওই ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রুবানা আফরোজ তাদেরকে মৃত ঘোষনা করেন। হাসপাতালের কর্তর‌্যবর চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের মাতম বিরাজ করছে। দুই পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। তাদের এই করুন মৃত্যুতে এলাকাবাসী নির্বাক হয়ে পড়েছে।

সদরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যাই। নিহতদের দাফন সম্পন্ন করতে তিনি সব রকমের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ