মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

সেই শিশুটির নাম নাঈম, বড় হয়ে পুলিশ হতে চায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে যখন এফআর টাওয়ার জ্বলছিল বহু মানুষ ব্যস্ত ছিল সেলফি তুলতে আর ঘটনা দেখতে। সে সময় শিশু নাঈম ফায়ার সার্ভিসের ফুটো পাইপ কাগজ দিয়ে বেঁধে পা দিয়ে আটকে রাখছিল। এ ঘটনা কাল ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এফআর টাওয়ারে আটকা পড়া মানুষের উদ্বেগ-আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে সেখানকার পরিবেশ। ধোঁয়ার কুণ্ডলীর কারণে আকাশ দেখা যাচ্ছিল না। এরই মধ্যে সেখানে উপস্থিত হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে থাকেন তারা। কিন্তু পানি দেওয়ার সেই পাইপ ফুটো থাকায় কাজে ব্যঘাত ঘটে।

বিষয়টি চোখে পড়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতা করতে পলিথিন দিয়ে সেই ফুটো বন্ধ করার চেষ্টা করে নাঈম নামে এক শিশু। তবুও ফুটো দিয়ে পানি বের হতে থাকলে পাইপের সেই পলিথিন জড়ানো স্থানে হাত ও পা দিয়ে শক্ত করে ধরে থাকে সে, যাতে এখান দিয়ে কোনো পানি না বের হয়।

আগুনে আটকা পড়া অসহায় ব্যক্তিদের জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করা শিশু নাঈমের ঢাকার কড়াইল বউবাজারে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে। তার বাবা ঢাকায় ডাব বিক্রি করে, মা অন্যের বাসায় কাজ করে।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাঈম ক্লাশ ফাইভে পড়াশোনা করছে। আগুন লাগার সময় সেও অন্যদের মতো কৌতুহলি হয়ে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে আসে। যখন দেখে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তা প্রয়োজন তখন পাইপ চেপে ধরে সহযোগিতা করে।

পাইপ চেপে ধরা ছবিটি কখন তোলা হয়েছে সে নিজেও জানে না। তবে এক অসহায় মুহূর্তে ছোট শিশুর এই সহায়তার মানসিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ময় তৈরি করেছে। এই কাজের জন্য সবাই শিশুটিকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।

নাঈম সাংবাদিকদের বলেছে, আমি যখন আগুন লাগছে দেখলাম, তখন একাই চইলা আসছি। ২০ মিনিটের মতো চেষ্টা করছি। পরে আমার বাপে আমারে নিয়া যায়। রাইতে আমার ছবি ইন্টারনেটে দ্যাখছে আমার বাড়িওয়ালা, সেই আমার বাবা-মায়রে দেখাইছে।

এই শিশু নাঈম বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হতে চায় জানিয়ে সাংবাদিকদের জানায়, আমি পড়ালেখা করতে চাই। অনেক পড়াশোনা কইউরা আমি বড় পুলিশ অফিসার হইতে চাই।

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ