রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ।। ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৬ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ২, হাসপাতালে ২২০ ‘আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সচেষ্ট’  নির্বাচন ভবনের আশপাশের অবৈধ কম্পিউটারের দোকান উচ্ছেদে ইসির চিঠি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭ মামলায় ৫৯ জনের সাজা’  বিসিএসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল থাকবে ৪৮ ঘণ্টায় মিলবে দুবাইয়ের পর্যটন ভিসা, পাবেন যেসব ছাড় সিলেটের সারওয়ার আলমকে ‘ডিসি’ থেকে ‘উপসচিব’ পদে পদায়ন এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী সভা ২৪ জুন গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মৃত্যু ৩, আক্রান্ত ১ হাজার ৬৩ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ের সেই ৫ জনের মৃত্যু হয় নিপা ভাইরাসে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর এক গ্রামে পনের দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর জন্য নিপা ভাইরাসকে দায়ী করেছেন গবেষকরা।

গতকাল (৩ মার্চ) রোববার ওই এলাকায় গবেষক দলের সরেজমিন তদন্ত এবং রোগের নমুনা পরীক্ষার পর এ কথা জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

আইইডিসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোগের কারণ অনুসন্ধান করে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের সকলের জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ও মস্তিষ্কে ইনফেকশনের (এনসেফালাইটিস) ছিল। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে হতে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এবং সে নমুনায় নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

নিপা ভাইরাস সাধারণত বাদুড় থেকে ছড়ায়। বাদুড়ের খেঁজুরের কাঁচা রস পান করার মাধ্যমে তা মানুষের আসতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়।

আইইডিসিআর বলছে, উপরোক্ত আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশনে প্রথম মৃত ব্যক্তির খেঁজুরের কাঁচা রস পান করার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস না পাওয়া গেলেও অন্যান্য মৃত ব্যক্তিগণ প্রথম মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিল বলে আইইডিসিআর ধারণা করছে।

জীবিত সন্দেহাভাজন রোগীদের রক্তে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি না পেলেও বিভিন্ন সময়ে মৃত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

তদন্ত শেষে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল। তিনি রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।

তাতে বলা হয়, তদন্ত দল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত কাজ পরিচালনা করে। তারা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও মৃত ব্যক্তিদের পরিবার, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে বালিয়াডাঙ্গীর মরিচপাড়া গ্রামে আবু তাহের (৫৫), তার জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫), স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫), দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসানের (২৭) মৃত্যু হলে দেখা দেয় আতঙ্ক।

এর পর থেকে মৃতদের বাড়ি থেকে আশপাশের এক কিলোমিটারে জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন; অজানা রোগের আতঙ্কে দুটি স্কুলও বন্ধ করে দেয়া হয়।

তারপরই আইইইডসিআর, আইসিডিডিআর, বি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি মরিচপাড়া গ্রাম ও হাসপাতালগুলোতে তদন্ত চালায়।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ