আওয়ার ইসলাম: কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আবারো গোলাগুলি শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া গোলা বিনিময় শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের দুইজন পাকিস্তানের সেনা বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের ছোড়া মর্টার শেলে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একই পরিবারের তিন জন মারা গেছে। অন্যদিকে ভারত বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নাকিয়াল এলাকায়। সেখানে দুই বেসামরিক নাগরিক মারা যান।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিৃবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নাকিয়াল এলাকা দখলকারী ভারতীয় বাহিনীর উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ার সময় দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।’
গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ভারতের বিমান হামলার পর আট দিন ধরে কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণ রেখায় প্রতিবেশী দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি চলছে। এতে এ পর্যন্ত বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
নিয়ন্ত্রণ রেখার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত সব স্কুল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গোলাগুলির ঘটনায় সবচেয়ে বিপদে আছেন কাশ্মীরিরা। ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন কাশ্মীর সীমান্তের অনেকেই। বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন আজাদ কাশ্মীরের কয়েক হাজার অধিবাসী। অনেকেই আবার আশ্রয় নিয়েছেন বাঙ্কারে।
২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রনরেখা লঙ্ঘনের দায়ে দুইটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করে পাকিস্তান। সেইসঙ্গে আটক করে এক ভারতীয় পাইলটকে। শুক্রবার সেই পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরত দেয় পাকিস্তান।
গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে গাড়ি বোমা হামলায় দেশটির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪৯ জন সেনা নিহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান ভিত্তিক বিদ্রোহী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ।
আরএম/