আওয়ার ইসলাম: নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। হাঁপরের মতো ওঠানামা করছে বুক। কাশির দমকে প্রাণ ওষ্ঠাগত। নাকমুখ দিয়ে বেরুছে রক্তের দলা। শুধু মানুষ নয়, এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে পোষ্য প্রাণিরাও!
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরজুড়ে প্রবল দূষণের কারণে এমনই অবস্থা চলছে বলে ডেইলি মেইলের এক খবরে বলা হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে কুয়াশা আর দূষণে ধোঁয়াশায় মুড়ে আছে গোটা শহর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরজুড়ে অসংখ্য গাড়ি, বড় বড় নির্মাণ এবং হোটেলের উনুন বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা হয়েছে ব্যাংককের। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়েছে দুঃসহ অবস্থার ছবি।

কোনও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রুমালে নাকের রক্ত মুছছেন তরুণী, কোথাও আবার কারও চোখ টকটকে লাল হয়ে রয়েছে। সারা শহরের মানুষ মুখোশ পরে বেরোচ্ছেন রাস্তায়।
নুত্তাউট সিরিচাইনাউমিত নামে একজন বলেন, ‘দিন কয়েক ধরেই প্রশ্বাস নেওয়ার সময়ে জ্বলে যাচ্ছিল নাক। তারপরে রাতে হঠাৎ হাঁচি শুরু হলো, আর সকাল থেকে দেখছি, হাঁচির সঙ্গে নাক থেকে বেরিয়ে আসছে দলা দলা রক্ত। প্রচণ্ড চমকে যাই আমি। আগে কখনও হয়নি এমন। ভয়ঙ্কর ধুলোর কারণেই এই অবস্থা মনে হয়।’
সিনি প্রেম্মানুসপাইসাল নামের আর এক শহরবাসী আবার ভুগছেন ফুসফুসের সংক্রমণে। তিন দিন ধরে ক্রমাগত বমি হচ্ছে তার। কফের সঙ্গে উঠে আসছে রক্ত। এর আগে কোনো শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুখ হয়নি তার। তিনি বলেন, ‘দূষিত হাওয়ায় মিশে আছে অসংখ্য জীবাণু। সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলছে এই পরিস্থিতি।’

অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক, শিশুদের রাস্তায় বেরোতে বারণ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে প্রায় ৫০০টি স্কুল। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এমনকি, দূষণের কারণে ধোঁয়াচ্ছন্ন আকাশে উড়তে পারছে না বিমানও। ড্রোন উড়িয়ে আকাশে জল ছিটিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে দূষণ।
ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীতে উপচে পড়ছে ব্যাঙ্ককের হাসপাতালগুলো। আইসিইউ-তেও স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। কারও কারও চোখ থেকেও রক্ত পড়ছে।
খুন সংসামুত নামের এক রোগীর কথায়, ‘এভাবে বাঁচব না। দূষণেই মরে যাব। কিছু করা উচিত।’
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ক্রমে আরও বেশি করে আবছা হয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। অসংখ্য পশুপাখিও অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে রোজ।

তিলধারণের জায়গা নেই পশু হাসপাতালগুলোতেও। ‘পেট অ্যান্ড অ্যাকোয়াটিক অ্যানিম্যাল হসপিটালে’ পোষ্য খরগোশ জুব্বুকে নিয়ে এসেছেন মালিক। তার দাবি, জুব্বুর হাঁচি থামছেই না। সঙ্গে রক্তও পড়ছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, খরগোশটির নাকের ভেতরটা লাল হয়ে ফুলে রয়েছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রবল দূষণেই এই অবস্থা জুব্বুর। সংক্রমণ ছড়িয়েছে ফুসফুস পর্যন্ত। মালিক বলছেন, ‘ওকে বাড়ি থেকে বেরোতে দিই না। তাও বাঁচাতে পারলাম না সংক্রমণ থেকে। আমার বাড়ির ভেতরটাও ধোঁয়া-ধোঁয়া হয়ে আছে।’
কেপি