চৌধুরী মনজুর লিয়াকত
মঙ্গলবার দিবাগত যে রজনীর আগমনী শুনছি, তা ছোট বেলা থেকেই উপলব্ধিগত তাড়নায় এক বন্ধন সৃষ্টি করে চলেছে সময়ের আবর্তনে অবিরত। তাই মনে অনুরণিত হচ্ছে স্মৃতি জাগানিয়া এই রাতের কথা, যা আসছে আজ দিবার সমাপ্তিতে।
মনে পড়ে যাচ্ছে সেই সময়ের দিনশুরুর প্রস্তুতি আর বিকেল পেরোনো গোসলের কথা। সে গোসলের চাহনি ছিল পবিত্রতার প্রলেপ। তাই সেই পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আসতো পবিত্রতার এক সৌরভ। এরপর সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি অথবা পরিচ্ছন্ন কোনো বস্ত্রের পরিধান।
মনে পড়ে সন্ধ্যা থেকে ব্যস্ততম ক্ষণ অতিবাহনের সময়গুলোকে। যদি সত্যি কথা বলি তবে বলতেই হয়, ভোলা তো যায় না সেই প্রিয়জনের কবরস্থানের আলোকিত সারারাত। আর সেখানে একটি ক্ষণে কান্না বিজড়িত আমাদের অবস্থান।
সেই পবিত্রতার ছায়াতল যেন মনে করিয়ে দিতো দোয়ার চাঁদোয়ায় ঘেরা নিজের অজান্তেই নিজকেই মনে করিয়ে দেয়া, অমোঘ পরিণতি সেই মৃত্যুর কথা। কবরস্থানে যাওয়া মানে নিজেকে চিরকালীনতায় পরিচ্ছন্ন রাখার এক অব্যক্ত বাসনা।
এ ছাড়া তো যাওয়া হয় না সাধারণত বেশিরভাগের সে অন্তিম গন্তব্যের সেই প্রারম্ভের এ স্থানে। এ দিনকে প্রয়োজনীয়ই তো মনে হতো উপরের কারণগুলোর একত্রিকরণে।
তারপর নামাযের পাটাতনে রাত পার করে দেয়া সময়গুলো দোলা দেয় মনের গহীনে। মনে পড়ে সেই রাতের মাওলানা সাহেবদের বয়ানগুলোর কথা। মনে দোলা দেয় নিজ বন্ধু আর প্রিয়জনদের সাথে আধ্যাত্মিকতার ছায়াতলের অতিবাহিত রাতের সময়ের স্মৃতিগুলো। যেখানে মন টানতো সুন্দরের অবগাহনে ভ্রমণ করতে।
তারপর ওই রাত জেগে কান্না ভেজা ইবাদত আর একটি সময়ে তাহাজ্জুদের নামায। সেই সময়টির কালজ্ঞানের যে কোনো তুলনায় হয় না, যে বুঝে তার কাছে। আর এভাবেই কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে যাওয়া সূর্যোদয়ের। সে সময়ের আলো-আঁধারিতে ফজর নামাযের স্বপ্নিল ধ্যানযোগ। এরপরে নামাযের সমাপ্তিতে চোখ ভেজানো মোনাজাতে মহামহিমের কাছে আকুল চাওয়া এবং একইসাথে ক্ষমা পাওয়ার ব্যাকুলতা।
তারপর মোরগের ডাক, ভোরের আলোয় বাসায় ফেরা আর প্রায় সারাদিন ঘুম। সেই রাত জাগা বন্ধুকে পরেরদিন সন্ধেবেলার প্রশ্নবাণ 'বন্ধু কি খবর বল, ক'রাকাত নামায পড়েছিস গত রাতে?
আমি তো একশ পার করেছি সেজদার তীব্র আনন্দে, যা এবার নিয়ে যা হলো বহুবার'। যদিও কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই বা নেই সংখ্যা এ রাতের নফল নামায অথবা ইবাদতের। যে কোনো দিবা বা রাত্রির মতই নফল নামায আর ইবাদত মানুষ করতে পারে আজও। তবুও স্মৃতি তাড়া করে ফেরে এ মনের আঙ্গিনাতে অতীত সুখের তীর বিধিয়ে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মনে পড়ে পবিত্র কুরআনের আয়াত 'তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো'। সত্যিকার অরà§