আওয়ার ইসলাম : বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সবচেয়ে বড় আঘাত হয়েছে গুলশানে হলি আর্টিজানে। ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলা গোটা বিশ্ব দেখেছে। একসঙ্গে এত সংখ্যক বিদেশি হত্যার মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপর আঘাত হানার একটা চেষ্টা হয়েছিল। হামলা করে যাতে সরকারের পতন ঘটানো যায় সে ধরনের একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল জঙ্গিদের।
এ ধরনের ঘটনার পর বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব নতুন এক বাংলাদেশ দেখছে। পুলিশ সদর দফতরের এডিশনাল ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মো. মনিরুজ্জামানের জঙ্গি সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।
হলি আর্টিজান আক্রমণ স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে জঙ্গিদের সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঢাকার অত্যন্ত অভিজাত এলাকা গুলশানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক ও সম্ভ্রান্ত বাংলাদেশিরা বসবাস করেন। এখানে এ ধরনের হামলায় দেশি-বিদেশি মিডিয়া দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বিশেষত যখন দেশের সামগ্রিক জিডিপির বাৎসরিক গড় বৃদ্ধির হার কমবেশি ৭.০ এর ওপরে, সে অবস্থায় এ আক্রমণ বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলায় বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক মেগা প্রজেক্টে কর্মরত বিদেশি কনসালটেন্ট ও বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল।
এ ছাড়া আক্রমণ পরবর্তী সময়ে আমাক নিউজ এজেন্সির বরাতে আইএস কর্তৃক ঘটনার দায় স্বীকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রেস্টুরেন্টের ভেতরে বিদেশি নাগরিকদের লাশের ছবি প্রকাশ, বিদেশি মিডিয়াতে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি বিভ্রান্তিকর চিত্র উপস্থাপন হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত হামলায় অংশগ্রহণকারী জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
সামগ্রিকভাবেই হলি আর্টিজান আক্রমণ বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি, ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতির ওপর ছিল এক ধরনের বিশাল আঘাত। এ হামলার পর পরই সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো সরকারপ্রধান কর্তৃক জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা। এ ঘোষণার মাধ্যমে দ্বিধাহীন চিত্রে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অটল নীতি ঘোষিত হয়।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সব ধরনের জঙ্গিবাদ এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান à¦