আবদুল্লাহ তামিম
হযরত আদম আ. সর্বপ্রথম পৃথিবীতে এসে কী কাজগুলো করেছেন আপনি কী জানেন? আদম আ.পৃথিবীতে এসে আল্লাহ তায়ালার দরবারে আরজ করলেন হে আল্লাহ পৃথিবীতে আসার পর আমি এখান থেকে নাতো ফেরেশতাদের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না কোনো ইবাদতখানা দেখতে পাচ্ছি। আমি এখন কী করবো।
জান্নাতে থাকাকালীন সময়ে তো বায়তুল মামুর দেখেছি, সেখানে ইবাদত করেছি। ফেরেশতাদেরকে সেখানে ইবাদত করতে দেখেছি। আমার খুব ভালো লাগতো। আল্লাহ তায়ালার অাদেশ আসে, আমি যেখানে দাগ দিয়ে দিবো সেখানে বায়তুল্লাহ নির্মাণ কর। বায়তুল্লাহতে নামাজ পড়বে। তাওয়াফ করবে।
জিবরাঈল আলামিন আদম আ. এর সাথে থেকে সব কাজে সহযোগিতা করেন। জিবরাঈল আলামিন পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে এসে দাগ টেনে দেন। সাত জমিনের অস্তিত্ব দেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে পাঁচটি পাহাড়কে পাথর দিয়ে নির্মাণ করেন যাতে জমিন হেলে না পড়ে। তুর পাহাড়, হেরা পাহাড়, লুবনান পাহাড়,জুদি পাহাড়, তুরে যাইতা পাহাড় স্থাপন করে।
বায়তুল্লাহ নির্মাণের পর চারদিকে দেয়ার তৈরী করে দেয়া হয়। হযরত আদম আ. তাওয়াফ আর নামাজ আদায় শুরু করলেন তাতে। আদম আ. নির্মিত কাবা ঘর নূহ আ. এর মহা প্লাবন পর্যন্ত এভাবেই থাকে।
মহা প্লাবনের সময় বায়তুল্লাহ আসমানে ওঠিয়ে নেয়া হয়েছিলো। আর সেই জায়গাটাকে উচু করে দেয়া হয় চিহ্নের জন্য। মহা প্লাবনের পরও মানুষ সেখানে দোয়া করতে ও বরকেতের জন্য যাওয়া আসা করতো।
ইব্রাহিম আ.এর সময় পর্যন্ত বায়তুল্লাহ এভাবেই থেকে যায়। পরে বিবি হাজেরা অা.ও ইসমাইল আ. এ জায়গায় বসবাস শুরু করে। বিবি হাজেরা আ. এর মৃত্যুর পর ইব্রাহিম আ. কে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন তিনি যেনো পুনরায় বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেন।
নির্মাণের সময় আল্লাহ তায়ালা অাসমানে মেঘ-থণ্ড প্রেরণ করেন যাতে ইব্রাহিম আ. বায়তুল্লাহর নির্ধারিত জায়গা চিনতে পারেন। জিবরাইল আ. সেই ছায়া অনুযায়ি দাগ টেনে দিলে ইব্রাহিম আ. সেই দাগ অনুযায়ি বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেন।
ইব্রাহিম আ. কাবার দুটি দরজা দিয়েছিলেন। পরবর্তিতে এটা সংস্কার করে একটি দরজা রাথা হয়। আর ইব্রাহিম আ. এর সাথে কাজ করেছিলেন হযরত ইসমাইল আ.। তিনটি পাহাড় থেকে তারা পাথর সংরক্ষণ করেছিলেন।
সূত্র: কুদরত উর্দূ