শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘কওমি সনদের স্বীকৃতি শুধু কাগজে নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে’ ময়মনসিংহে ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমীয়্যাহর উদ্যোগে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সোমবার জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন আজ কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  কুরআন-হাদিসের আলোকে জামাতের গুরুত্ব গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ইস্যুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী  দাওয়াতি কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ সিলেটে ৩ হত্যাকাণ্ডে নিহত স্বামী-স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন হাফেজে কুরআনদের উৎসাহিত করতে মালদ্বীপ সরকারের নানা উদ্যোগ

পাকিস্তানের মানবাধীকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গিরের ইন্তেকাল, প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: পাকিস্তানের প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গির মারা গেছেন। গতকাল রবিবার লাহোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে, আসমা জাহাঙ্গির হৃদরোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আসমা জাহাঙ্গিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে নির্যাতিত বাঙালির পক্ষে যেসব পাকিস্তানি দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন আসমা জাহাঙ্গিরের বাবা মালিক গোলাম জিলানি।

১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে জেনারেল ইয়াহিয়াকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন জিলানি। এ জন্য তাকে কারাবরণ করতে হয়।

বাবার মতো আসমা জাহাঙ্গিরও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত বর্বরতার জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ক্ষমা চাওয়ানোর দাবিতে সোচ্চার ছিলেন আসমা জাহাঙ্গির।

আসমা জাহাঙ্গির ১৯৫২ সালে লাহোরে জন্ম গ্রহণ করেন। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ২০১০ সালে তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। পাকিস্তানে এই পদে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনেরও সহসভাপ্রধান ছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের মানবাধিকার, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু ও শিশুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান এবং উইমেনস অ্যাকশন ফোরাম প্রতিষ্ঠায় তিনি যৌথ অংশীদার ছিলেন।

স্বকৃতি স্বরুপ বিভিন্ন পুরস্কার। ২০১০ সালে হিলাল-ই-ইমতিয়াজ ও সিতারা-ই-ইমতিয়াজসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। মানবাধিকার সংস্কৃতির উন্নয়নে ভূমিকার জন্য তিনি ইউনেসকো/বিলবাও পুরস্কার এবং ফরাসি সরকারের দে লা লিজিঅঁ ডি অনার পুরস্কার পান।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড ও ২০১০ সালে ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড পান।আসমা জাহাঙ্গিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকারকর্মী।

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ