বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৩ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
গণঅভ্যুত্থান দিবসে ইফাদাতুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় খেলাফত মজলিস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল’ দেশব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন শুক্রবারে বায়তুল মোকাররমে জুমার খুতবাপূর্ব বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ পাকিস্তানে, ব্যাপক ধরপাকড় জুলাইয়ের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান ও মাদরাসাপড়ুয়াদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা হজযাত্রীদের জন্য নতুন ছাতার নকশা আহ্বান সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের

হজ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম; মধ্যস্বত্বভোগীদের দোষছেন এজেন্সি মালিক ও সরকার পক্ষ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: অন্যান্য বারের মত এ বছর ২০১৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনায়ও গুরুতর অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়েছে। টাকা নিয়ে সৌদি আরবে হাজী না পাঠানো, দেরিতে ফ্লাইট দেওয়া, সৌদিতে আবাসন সমস্যা, মুয়াল্লিম ফি না দেওয়া, নিম্ন মানের খাবার সরবরাহ, খাবার ও পানির সংকটসহ নানান অভিযোগ হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে।

সৌদিতে বাংলাদেশ দুতাবাস, বাংলাদেশ হজ মিশন, বাংলাদেশে ধর্ম মন্ত্রণালয়, হাব, আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জমা পড়েছে হাজীদের বিস্তর অভিযোগ। এসব অভিযোগ বিষয়ে সুরাহা করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে এসব সংস্থাকে।

ইতোমধ্যে অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়, দুদক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক টিম।

জানা যায়, এ বছর মক্কা হজ মিশনে ৭৯টি হজ এজেন্সীর বিরুদ্ধে মোট ১০৭টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অন্যদিকে এ বছর হজে যেতে না পারা ৩৬৬ জন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি পেতে যাচ্ছে ২৮টি হজ এজেন্সী। সৌদি আরবে মোয়াল্লেম ফির বকেয়া ৫০০ রিয়াল পরিশোধ না করায় ২০টি হজ এজেন্সীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, হজের ৩ দিন মিনা, আরাফা ও মুযদালিফায় থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দিয়ে থাকে সৌদি কর্তৃপক্ষ মুয়াসসাসা। কিন্তু এ বছর তাদের কিছু ত্রুটি ও অবহেলার কারণে খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশী হাজীদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, হজ্ব এসেন্সীস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, হজ শেষে মক্কার কাকিয়ার লাইলিন নূর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত হাবের নৈশভোজে মুয়াসসাসা দক্ষিণ এশিয়া জোনের ডিজি ওমর সিরাজ আকবরের কাছে মুয়াসসাসার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তথ্য-প্রমাণসহ আমরা তুলে ধরেছি।

বাংলাদেশে অভিযুক্ত হজ এজেন্সীগুলোর সাথে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করলে উঠে আসে নানান তথ্য।

বেশির ভাগ এজেন্সীর মালিক জানান, তারা হজ ব্যবস্থাপনার মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের প্রতারণার শীকার- যারা হজ ব্যবস্থাপনায় গ্রুপলিডার নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য প্রতিটি হজ এজেন্সী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হজ যাত্রী সংগ্রহ করেন।

মূলত এই শ্রেণিটিই হাজীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহসহ এজেন্সীর সাথে যোগাযোগ রক্ষার কাজটি করে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হজ এজেন্সীগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ থাকে না হজ যাত্রীদের।

এজেন্সীগুলোর দাবি- এই মধ্যসত্ত্বভোগীরা হাজীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ সংগ্রহ করে তা যথাযথভাবে এজেন্সীতে জমা না করে এর বড় একটি অংশ আত্বসাৎ করেন।

এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ঢাকার পুরানা পল্টনের হজ এজেন্সী এস. খিদমাহ ওভারসীজ সার্ভিসেসের মালিক আবদুল আহাদ সালমানের সাথে।

সালমান জানান, এ বছর তিনি মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের প্রতারণার স্বীকার হয়ে প্রায় পথে বসে গেছেন। ২৬৭ জন হাজীর বিপরীতে বিপুল অংকের টাকা বকেয়া রেখে গা ঢাকা দেন মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা।

হজ আসন্ন হলে ব্যবসায়িক সুনামের কথা চিন্তা করে, ব্যক্তিগত ভাবে ধারদেনা করে হাজীদের সৌদি ভিসা, বিমান টিকেট, সৌদিতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ হজ প্রতিপালনের সামগ্রিক আয়োজন সম্পন্ন করেন তিনি।

হজ শেষ করে হাজীরা দেশে ফিরলেও, ঘরে ঘরে ধর্না দিয়েও মাওলানা সালমান পারেন নি তার বকেয়া টাকা আদায় করতে। অবশেষে, আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা করেছেন বড় অংকের টাকা আত্মসাৎকারী গোপালগঞ্জের কাশীয়ানীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের হাজী মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুরাদ হোসেন, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জহুরুল আলম সরকার ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

ইতোমধ্যে মীজানুর রহমান এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আছেন। অন্যরা পলাতক।

একই বিষয়ে গোপালগঞ্জের জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট নাহাজ পাশা বাদী হয়ে মামলা করেছেন গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।

অন্যান্য জায়গাও চলছে মামলার প্রস্তুতি। অন্যান্য এজেন্সীগুলোর বক্তব্য প্রায় একই।

এ বিষয় ধর্মমন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি বি, এইচ হারুন বলেন, ‘এ বছর হজ যাত্রী পরিবহন ও ভিসা করানোর বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রতারণার জন্য মধ্যস্বত্ত্বভোগীরাই মূলত দায়ী। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রতিবছর হজের আগে হাজীদের হজ যাত্রা নিয়ে দেখা দেয় নানান অনিশ্চয়তা। হজ শেষে হাজীদের থাকে বিস্তর অভিযোগ। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবী।

এ বিষয়ে সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে একটি যথাযথ হজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।

রাজনৈতিক বিজয়ের পূর্বশর্ত সাংস্কৃতিক বিজয়: মুসা আল হাফিজ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ