শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘কওমি সনদের স্বীকৃতি শুধু কাগজে নয়, পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে’ ময়মনসিংহে ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমীয়্যাহর উদ্যোগে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সোমবার জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন আজ কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  কুরআন-হাদিসের আলোকে জামাতের গুরুত্ব গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ইস্যুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী  দাওয়াতি কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ সিলেটে ৩ হত্যাকাণ্ডে নিহত স্বামী-স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন হাফেজে কুরআনদের উৎসাহিত করতে মালদ্বীপ সরকারের নানা উদ্যোগ

'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মুহাম্মদ' যেভাবে 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা' হলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ভারতের গাড়ি কোম্পানিগুলির মধ্যে এক অতি পরিচিত নাম 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা'।

বিশ্বের সব থেকে বড় ট্রাক্টর প্রস্তুতকারক কোম্পানি 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা'। কয়েকশো কোটি ডলার সম্পত্তির অধিকারী এই কোম্পানি।

এদের তৈরি ট্রাক্টর ভারতের কৃষকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

কিন্তু জানেন কি এই কোম্পানির নাম এক সময়ে ছিল 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মুহাম্মদ'?

আর সেখান থেকে দেশভাগ, ভারত - পাকিস্তানের স্বাধীনতা - এসব কারণে তা আজ হয়ে উঠেছে 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা'। কোম্পানিটি চালু হয়েছিল ১৯৪৫ সালে।

পাঞ্জাবের লুধিয়ানাতে কে.সি মাহিন্দ্রা, জে.সি মাহিন্দ্রা আর মালিক গুলাম মুহাম্মদ ইস্পাত কারখানা হিসেবে এই কোম্পানির পত্তন করেন।

'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা'র চেয়ারম্যান কেশব মাহিন্দ্রা বিবিসিকে বলছিলেন, "কে.সি মাহিন্দ্রা আর জে.সি মাহিন্দ্রা মি: গুলাম মুহাম্মদকে কোম্পানির অংশীদার বানিয়েছিলেন, কারণ তারা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের একটা বার্তা পৌঁছে দেবে সবার কাছে। সংস্থায় মি: মুহাম্মদের অংশীদারিত্ব কমই ছিল, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও তাঁর নামটা কোম্পানিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।"

দেশভাগের একদম ঠিক আগে যখন পাকিস্তানের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, তখনও গুলাম মুহাম্মদ আর মাহিন্দ্রা পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। ব্যবসাও ভালোই চলছে তখন।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরে মালিক গুলাম মুহাম্মদ পাকিস্তানে চলে গেলেন। তিনি সেদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। দেশ যখন ভাগ হল, তখন ব্যবসাও ভাগ হয়ে গেল।

১৯৪৮ সালে 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মুহাম্মদ' নাম পাল্টে করা হলো 'মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা'।

গুলাম মুহাম্মদ নিজের অংশীদারিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন। তবে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক দেশভাগের পরেও অটুট ছিল। শুধু ব্যবসাই আলাদা হয়ে গিয়েছিল।

কেশব মাহিন্দ্রার কথায়, "মালিক গুলাম মুহাম্মদ যখন পাকিস্তানে চলে গেলেন, তখন আমাদের পরিবারের সবাই খুব অবাক হয়েছিলাম। এটাও খারাপ লেগেছিল যে উনি আগে থেকে আমাদের পরিবারকে কিছু জানাননি যে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।"

১৯৫১ সালে মালিক গুলাম মুহাম্মদ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হয়েছিলেন। ব্যবসা আলাদা হয়ে গেলেও মাহিন্দ্রা পরিবারের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কটা তিনি ভোলেননি।

১৯৫৫ সালে দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রথম সামরিক প্যারেডে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন।
"গুলাম মুহাম্মদ দিল্লিতে এসে প্রথম ফোনটা করেছিলেন আমার ঠাকুমাকে। দুই পরিবারের বন্ধুত্বটা আগের মতোই রয়ে গেছে," বলছিলেন কেশব মাহিন্দ্রা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ