বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮


হারিয়ে যাওয়া কিশোর যোদ্ধারা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী
গল্পকার

galpaপুকুর পাড়ের জামগাছটায় এ বছর প্রচুর পরিমাণে জাম ধরেছে। জামের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালগুলো। কামাল, মফিজ, সালেহারা সারাদিনই গাছতলায় ভিড় করে থাকে। আমি ওদের নির্লজ্জ বলে যতোই বকাঝকা করি না কেন ওদের যেন গায়েই লাগে না। আজকেও ওরা এসেছে জামগাছ তলায়। আমি ওদের অপমানিত করার জন্য বললাম-
তোরা রোজ রোজ অামাদের বাড়িতে অাসিস কেন? তোদের লজ্জা লাগে না? জাম খাওয়ার শখ হলে কিনে খেতে পারিস না?
বাঁকা হাসি দিয়ে কামাল বলল- মাগনা পাইলে কিননা খামু ক্যান?

ওর কথা শুনে রাগে আমার গা জ্বলে ওঠল। তাই সোজা বলে দিলাম- এটা কি তোর বাবার গাছ?
এমন সময় আম্মা ডাক দিলেন- জামিল... ভাত খেতে আয়।
আসছি আম্মা...।

আম্মা পুঁটিমাছ দিয়ে চালকুমড়ো রেঁধেছেন। কিন্তু আমিতো পুঁটিমাছ খেতে পারি না। তাই মুখ ভার করে বসে আছি। আম্মা জিজ্ঞেস করেন-
কিরে খাচ্ছিস না কেন?
আম্মা! তুমি কী জানো না আমি পুঁটিমাছ খাই না?
আজ কষ্ট করে খেয়ে নে বাবা। কাল তোর জন্য বাজার থেকে বড় রুই মাছ অানাবো।
না, অামি পুঁটিমাছ খাবো না। অামাকে দুধ দাও।
দুধ পাবো কোথায়?
কেন সেজো দাদু দিয়ে যাননি?
তোর সেজো দাদু তো গতকালকেই ইন্ডিয়া চলে গেছেন।
ইন্ডিয়া গেলেন কেন?
দেশের অবস্থা যে ভালো না, সে জন্য।
ও! আমিতো ভুলেই গেছি দেশে এখন যুদ্ধ চলছে। আচ্ছা আম্মা! ওরা আমাদের শুধু শুধু মারতে এলো কেন?
কারণ ওরা জালেম।
জালেম মানে কী?
জালেম মানে হলো যারা ক্ষমতার দাপটে, গায়ের জোরে নিরপরাধ মানুষের ওপর অত্যাচার করে, তাদের ন্যায্য অধিকার ছিনিয়ে নেয়, দুর্বলদের সহায়সম্পত্তি আত্মসাৎ করে, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করে ইতিহাস তাদেরই জালেম বলে।
তাহলে ওদের কি কোনো বিচার হবে না?
হবে বাবা হবে।
কিন্তু কবে?
যেদিন তুই এদেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে পারবি, সেদিনই হবে ওদের সঠিক বিচার।
আমি! আমি কী পারবো?
পারতে তোকে হবেই। এ যে তোর বাবার স্বপ্ন।
বাবার স্বপ্ন!
হ্যাঁ, স্বাধীনতা তোর বাবার স্বপ্ন। তোর মায়ের স্বপ্ন। সকল বাঙ্গালীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণের জন্যইতো তোর বাবা...
আম্মা আর কিছু বলতে পারলেন না
আঁচলে চোখ মুছে ঘরের ভেতরে চলে গেলেন।

***
সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই।
পশ্চিমাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে সূর্যের রক্তিমাভা। মৃদু বাতাসে ঢেউ ওঠেছে বুড়িগাঙ্গের তীরঘেঁষা সাদা কাশবনে। বুড়িগাঙ্গ এখন বর্ষার পানিতে থৈ থৈ। এখান থেকে অামাদের বাড়িটা স্পষ্ট দেখা যায়। আমি কাশবনের আল দিয়ে হেটে চলছিলাম আপন মনে। হঠাৎ গণমানুষের চিৎকার শুনে থমকে দাঁড়ালাম। চিৎকারটা দেখছি অামাদের বাড়ি থেকেই আসছে। মুহূর্তেই জ্বলে ওঠলো আমাদের দু'চালা টিনের ঘরটি। জ্বলে পুরে ভস্ম হতে থাকে প্রয়াত দ