মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ।। ২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
আতঙ্কিত হয়ে আমানত তোলা গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক তৃণমূলে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জমিয়ত মহাসচিবের দারুল উলুম সাবিলুস সালাম হায়দরাবাদের শায়খুল হাদিসের ইন্তেকাল দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে, বিস্তারিত শিগগির প্রকাশ হবে: ট্রাম্প সৌদি আরবে হিজরি নববর্ষ শুরু, ২৫ জুন পবিত্র আশুরা ৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ‘সংসদীয় আসনসমূহে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খবরটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া হেফাজতের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সিলেটে হেনস্থার শিকার মুফতি রিজওয়ান রফিকী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

rizwan_rafiqiমোস্তফা ওয়াদুদ: সম্প্রতি ওয়াজের মাঠে তরুণদের মধ্যে খ্যাতি পেয়েছেন মুফতি রিজওয়ান রফিকী। তার বয়ানের মেয়াদকাল মাত্র ৪ বছর হলেও স্বল্প সময়ে তিনি দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

সম্প্রতি এ বক্তা সিলেটে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন। আয়োজকরা তাকে নানারকম ভোগান্তিতে ফেলেছেন। নানারকম হয়রানিও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর প্রোগ্রাম ছিল সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার বিছানাকান্দী গ্রামে। একই দিন প্রোগ্রাম ছিল কুমিল্লার বরুরা থানাধীন শরাফত গ্রামের মাদরাসায়। তাই বাদ জোহর সিলেটের বয়ান শেষ করে রাতের নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই কুমিল্লা পৌঁছে দেয়ার কথা বলে রিজওয়ান রফিকীকে নিয়ে যান সিলেট মাহফিল কর্তৃপক্ষ। তারপর কথা রক্ষা না করে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে আঁটকে রাখেন। এতে কুমিল্লার মাহফিলে যেতে বিঘ্ন ঘটে।

এ ব্যাপারে ফোনালাপে প্রতিবেদককে বিস্তারিত জানান মুফতি রিজওয়ান রফিকী। তিনি বলেন, এদিন কুমিল্লায় মাহফিল থাকায় আমি সিলেটের দাওয়াত রাখতে চাইনি। কিন্তু সিলেট মহাফিলের কর্তৃপক্ষ আমাকে বাদ জোহর বয়ান এবং কুমিল্লার প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে পৌঁছে দেবে বলে প্রোগ্রামের জন্য রাজি করায়। মূলত তারা গত নভেম্বরে ৭ তারিখ জাফলংয়ে করা আমার মাহফিলের কারণে অামার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

তিনি বলেন, সিলেট শহর থেকে ৪০ মিনিটের দূরত্বের কথা বলে আমাকে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে প্রাইভেট গাড়িতে যেতে সময় লাগে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট। রাস্তা খারাপ হওয়ায় মোটর সাইকেল যোগে অারো প্রায় অাধা ঘন্টা যেতে হয় মাহফিল স্থানে। ফলে প্রচণ্ড কষ্ট হয় অামার। মাঝখানে গাড়ির বাম্পার নষ্ট হওয়ায় চাকার মেরামত করতে হয়। শেষ পর্যন্ত জোহরের আগে সেখানে পৌঁছলেও বাদ জোহর আমাকে বয়ান করতে দেয়নি। জোহরের পরপরই অারেক বক্তাকে উঠিয়ে দিয়ে তারপর দেয়া হয় আমাকে। আর এতে বয়ান শেষ করে রওয়ানা দিতে দিতে প্রায় মাগরিব হয়ে যায়।

মুফতি রফিকী বলেন, এর মাঝে তারা আমাকে যেসব কষ্ট দিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তারা আমাকে মারাত্মকভাবে অপমান করেছে। তাদের কষ্টের কারণে আমার চোখে পানি চলে এসেছে। নীরবে কান্না করেছি। সর্বশেষে সেখানের এক মুরব্বির সহযোগিতায় ফিরে আসি।
অাসার সময় একটা মোটর সাইকেলের ব্যবস্থাও তারা করে দেইনি।

তিনি বলেন, বয়ানের হাদিয়া দেয়ার সময়ও তারা আমাকে হেনস্থা করেছে।  তিনি প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনিই বলুন, প্রাইভেটকারে ঢাকা থেকে গোয়াইনঘাট যেতে কত টাকা লাগে? তারা আমাকে ভাড়ার টাকাটা পর্যন্ত দেয়নি। তাদের দাবি ঢাকা থেকে একটা গাড়ি নাকি ৫ হাজারেই পাওয়া যায়। তাই আমি তাদের টাকা তাদের দান করে এসেছি।

মুফতি রেজওয়ান রফিকী বলে, বাংলাদেশে যত হক্কানী বক্তা আছেন সবাই আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে সিলেটের মানুষের কাছে আবেদন থাকবে আপনারা আলেমদের যথাযথ মূল্যায়ন করুন। অাপনাদের ঐতিহ্য অাপনারা রক্ষা করুন।

মুফতি রিজওয়ান রফিকী জামিয়া ইমদাদিয়া মুসলিম বাজার মাদরাসাসহ, রাহমানিয়া ও লালবাগ থেকে ইফতা শেষ করে বর্তমানে বোর্ডবাজার, গাজীপুর শহরের মারকাযুন নূর নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন মাদরাসা।

আরআর

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ