মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ।। ২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে, বিস্তারিত শিগগির প্রকাশ হবে: ট্রাম্প সৌদি আরবে হিজরি নববর্ষ শুরু, ২৫ জুন পবিত্র আশুরা ৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ‘সংসদীয় আসনসমূহে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খবরটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া হেফাজতের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহ পালনে রেকর্ড, পরিসংখ্যান জানালো সৌদি আরব সব ধর্ষণই সমান অপরাধ, ছোট-বড় সংজ্ঞা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসড়কে চলা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী মধ্যরাতের মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

গুর্খা: সাহসী জাতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

gurkhaশাহিদুল ইসলাম 

‘যদি কোনো মানুষ বলে আমি মৃত্যু ভয়ে ভীত নই, তাহলে হয় সে মিথ্যা বলছে, না হয় সে গুর্খা’- এটি একটি প্রবাদ। গুর্খা নেপাল ও উত্তর ভারতের একটি জাতিগোষ্ঠী। গুর্খা নামটির উৎপত্তি অষ্টম শতাব্দীর হিন্দু যোদ্ধা-সন্ত গুরু গোরক্ষনাথের নাম থেকে। তার শিষ্য বাপ্পা রাওয়াল রাজপুতানার (রাজস্থান) মেবার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। বাপ্পা রাওয়ালের পরবর্তী উত্তরাধিকাররা আরো তাদের রাজ অঞ্চল থেকে আরো পূর্বে চলে এসে গুর্খা বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।

গোর্খাল্যান্ড ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত একটা পাহাড়-অধ্যুষিত অঞ্চল। গোর্খাল্যান্ডের অধিবাসীরা গুর্খা নামে পরিচিত। গুর্খাদের প্রধান ভাষা নেপালি। গুর্খারা মূলত মঙ্গলদের উত্তরসূরি। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজনৈতিক অথবা ভিন্ন কারণে হাজার হাজার বছর আগে তারা তিব্বতের মালভূমি ছেড়ে এসেছে ।

গুর্খারা শারীরিক ভাবে শক্তিশালী ও অত্যন্ত কর্মঠ । এরা খুবই দুর্ধর্ষ আর বিশ্বস্ত হয়। বিশ্বস্ততার জন্য সকলেই এদের কাজ দিতে পছন্দ করে। যেমন আপনি একজনকে কাজ দিলেন। একদিন বললেন, ‘অপেক্ষা করো, আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত।’ আমরা হলে কী করি? কিছুক্ষণ দেখি, না এলে চলে যাই। কিন্তু গুর্খারা দরকার হলে সারা রাত বসে থাকবে কিন্তু আপনার কথা রাখবে।

গুর্খাদের সুসজ্জিত বাহিনী আছে। এ বাহিনীর কারণেই নেপালে ব্রিটিশরা ঢুকতে পারেনি। গুর্খারা বিশ্বস্ত কিন্তু আলাদা একটা জাতি। নেপাল, ভারত আর মিয়ানমারের মানুষের চেয়ে বেশি বিশ্বাসী ও সাহসী।

গুর্খা রেজিমেন্ট সারা বিশ্বের সৈন্য বাহিনীর মধ্যে সাহসিকতা ও যুদ্ধ কৌশলে পারদর্শিতার জন্য এক নামে পরিচিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮১৬ সালে গুর্খা সৈন্যদের এই রেজিমেন্ট তৈরি করেছিল।

গুর্খারা ১৮ ইঞ্চি লম্বা একটা বিশেষ ছুরি ব্যবহার করে যার নাম কুকরি। এই ছুরি নিয়ে প্রবাদ আছে, বিবাদ বা ঝামেলার সময় এই ছুরি খাপ থেকে বের করা হলে একে রক্ত পান করাতে হবে। না হলে গুর্খারা নিজের শরীর কেটে একে রক্ত পান করায়।

ইতিহাসে উল্লেখ আছে, আলেকজেন্ডার দি গ্রেট-এর হাত ধরে কুকরি ছুরি প্রথম এশিয়াতে প্রবেশ করে। প্রায় ৪৫০-৯০০ গ্রাম ওজনের এই ছুরিটি সে সময় প্রথম আলেকজেন্ডার দি গ্রেট যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। পরে আরও বিভিন্ন যুদ্ধে এই কুকরি ছুরির ব্যবহার লক্ষণীয়। আইরিশ লেখক আব্রাহাম স্টোকার-এর উপন্যাস ড্রাকুলা থেকে জানা যায়, ১৮১৪-১৮১৬ সালে যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গুর্খা রাজ্যের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তখন তাদের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় ওই যুদ্ধে প্রথম কুকরি ছুরির ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই অস্ত্র মিত্রবাহিনী এবং শত্রুবাহিনী উভয়েরই ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে।

গুর্খারা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে দশকের পর দশক ধরে সেবা দিয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত ব্রিটিশ সরকার তাদের কাজ আর আত্মদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করেছে। গুর্খাদের সব সময়ে দ্বিতীয় শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আসলে দীর্ঘদিন ধরে গুর্খারা অসামঞ্জস্যের প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ হিসেবে আছে। তাদেরকে তৈরি আর লালন করা হয়েছিল, ব্রিটিশ শিষ্টতা দ্বারা নয়, বরং ব্রিটিশ জাতিগত চিন্তা দ্বারা।

এআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ