বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দাদার ছায়া, চাচার ভালোবাসা এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ৪ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েদের আলাদা ক্লাসরুম চালুর দাবি ছাত্র জমিয়তের কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে ২ জনের মৃত্যু চা শ্রমিকদের সুরক্ষায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পরিবহনের পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জ্বালানি সংকট সমাধানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাতারে প্রতিনিধি দল ‘রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়’ দেশের ১৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা ইসলামপন্থীরা নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্নীতিবাজরা জনপ্রতিনিধি হবে: আমিরে মজলিস

ইটপাথরের শহরে ছাদবাগান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রোকন হারুন

দিনদিন শহরের জায়গা সঙ্কুচিত হচ্ছে ৷ গাছের অস্তিত্ব কমে যাচ্ছে ৷ পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে ৷ ফলে সুষ্ঠ-জীবন যাপন একরকম অপরিচিত হয়ে পড়ছে ঠিক স্বপ্নের মত ৷ অথচ প্রকৃতির সাথে মানুষের সখ্যতা ও মৌন-টান জন্মগত ৷

প্রকৃতির সবুজ ছোঁয়ায় দেহপ্রাণ সজিবতায় ভরে-উঠে ৷ কিছুতেই দূরত্ব সম্ভব নয় ৷ এক কথায় প্রকৃতির ছায়া ছাড়া মানব-জীবন অপূর্ণ ৷

মানবজীবনের বিশাল অংশ যেমন গাছ-গাছালির ছায়া ছাড়া অপূর্ণ, পৃথিবী-পরিবেশও গাছ-গাছালির ছায়া ছাড়া বিকলাঙ্গ ৷ পর্যাপ্ত পরিমাণ গাছ-গাছালির উৎপাদনে পরিবেশর ভারসাম্যতা ঠিক থাকে ৷

কার্বনডাই অক্সাইড, দূষিত বাতাস, বড় বড় কম্পানির জ্বালানি অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়া যা পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলে তা, গাছ-গাছালি গ্রহণ করে নির্মল শুদ্ধ অক্সিজেন তৈরি করে ৷ ফলে বিষাক্ত শ্বাসের রোধ ঘটিয়ে নির্মল বায়ু সহজে গ্রহণ করতে পারি ৷

কিন্তু শহরে পর্যাপ্ত পরিমাণ গাছ-গাছালির উৎপাদন নেই ৷ মানুষ বসবাসের হার অনুযায়ী গাছ-গাছালি নেই ৷ ফলে শহুরে জীবন অস্বস্হিকর ও অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে ৷ বিশেষ করে জ্বালানি অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়ায় শহরময়ে বিষাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে ৷ বিষাক্ত শুষ্ক আবহাওয়ায় শ্বাস নেয়ায় ফলে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে ৷

পরিবেশ ভারসাম্যতায় বিঘ্ন হওয়ায় সুপেয় পানি গড়ে প্রতি বছর এক থেকে দু’ফুট নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, যে কারণে ভবিষ্যতে পানি শূন্যতার প্রকটতায় জনজীবন নিঃশেষ হওয়ার আশঙ্কা, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ গাছ-গাছালির উৎপাদন না করলে ভবিষ্যত জনজীবনও ধ্বংসের মুখে পড়বে ৷

ছাগবাগান বিষয়ে পড়তে পাড়েন এ বইটি ছাদে বাগান

একটু জনসচেতনতা, গাছ-গাছালির প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা, প্রকৃতি-শিকড়ের প্রতি টান, বাঁচাতে পারে নিশ্চিত মৃত্যুকায় হুমকির মুখ থেকে ৷ সেই সাথে গাছ-গাছালি দিয়ে সাজাতে পারি সুন্দর নগরিকে ৷ গড়ে তুলতে পারি সমাজ-জীবন সুখকররূপে ৷

আসুন, ছাদের ফাঁকা জায়গা সবুজায়ন গাছ-গাছালি দ্বারা পূর্ণ করি ৷ জুঁই চামেচি চন্দ্রমল্লিকা দোলনচাঁপা রঙ্গন গোলাপ অর্কিড ডালিয়া হাছনাহেনা প্রভৃতি ফুল টবে টবে রোপণ করি ৷

সুন্দরের প্রতিক ঝুমকা লতা কুঞ্জলতা বেলকনিতে পালতে পারি ৷ তা সহজেই জানলার গ্রিলে শাখা মেলে ৷ অদ্ভূত রকমের সুন্দর প্রজাতির ফুল ৷ এছাড়াও মাঝাড়ি গড়নের ফলের গাছ লাগাতে পারি৷

কলমদেয়া আম গাছ লিচু গাছ, চেরিফল করমচা বেদানা ডালিম কুলবরই পেয়ারা প্রভৃতি ৷ তাতে বিষাক্ত ফলের বিকল্প হিসাবে সুস্বাদু ঋতুফল খেতে পারব, এবং প্রিয়জনদের বাড়িতেও পাঠাতে পারব ৷ এতে ফর্মালিনমুক্ত সম্পর্ক গড়ে উঠবে ৷

এছাড়াও পাশাপাশি সবজি চাষ করে আর্থিক লাভবান হতে পারি, যেমন চালকুমড়া মিষ্টি কুমড়া পুঁইশাক ডাটা-শাক, বেগুন ঢেঁড়শ টমেটো মরিচ লেবু, প্রভৃতির চাষে নিজ হাতে তৈরি কাঁচাবাজার উৎপাদন করতে পারি ৷

তাতে সংসারের অনেকাংশেই খরচ বেঁচে যাবে এবং ভেজালমুক্ত তরকারি খেতে পারব ৷ ভেজালযুক্ত, বিষাক্ত ফর্মালিনের কবল থেকে বেড়িয়ে আসতে পারব ৷ বহু রোগব্যাধি থেকেও পাব মুক্তি ৷

এভাবে আমাদের পরিবার সমাজ হয়ে উঠবে আত্মনির্ভর ৷ তাতে যেমন নিজেদেরও লাভ তেমনই অন্যদের এবং রাষ্ট্রেও লাভ ৷ শহুরে প্রতিটি ছাদে যদি, মনমতো করে ছাদবাগান গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই তাহলে অন্যদের জন্য আমরা মডেল হতে পারি ৷ সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য একক ভূমিকা রাখতে পারি ৷

-তরুণ আলেম ও লেখক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ