বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ।। ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৩ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশের প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা সরকারের সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২ লাখ ৮৩ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার মাত্র ১৬ দিনে প্রবাসী আয় ১৭২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার ‘কিশোর গ্যাংয়ের ফেসবুক-টিকটক আইডি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে পুুলিশ’ হামের টিকায় গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বিশেষ ইমাম প্রশিক্ষণ এবার রাজশাহীতে কুরআন, কাবা ও ‘পাই’ (π): এক বিস্ময়কর সংখ্যার ইঙ্গিত দিরাই জামেয়ার মুহতামিম হলেন ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ ময়মনসিংহে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অতঃপর ডাকাতি

কুরআনের আলোয় আলোকিত এক ইয়েমেনি নারীর জীবনগাথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশের এক নিরক্ষর বৃদ্ধা কেবল শুনে শুনেই পবিত্র কুরআনুল কারিম মুখস্থ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ৮২ বছর বয়সী হাজিয়া মরিয়ম আর-রামিমাহর এই অসাধারণ অর্জন আজ ইয়েমেনজুড়ে বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তায়েজের সাবির পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত হাদনান গ্রামে জন্ম নেওয়া মরিয়ম এমন এক সময়ে বেড়ে ওঠেন, যখন গ্রামীণ নারীদের শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ফলে তিনি কখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন এবং কৃষিকাজের মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে।

তবে অক্ষরজ্ঞান না থাকলেও তার অন্তরে ছিল এক গভীর আকাঙ্ক্ষা—একদিন পুরো কুরআন মুখস্থ করবেন। অনেকের কাছে তা অসম্ভব মনে হলেও তিনি স্বপ্নটিকে কখনো ত্যাগ করেননি।

২০০৬ সালে তার জীবনে নতুন মোড় আসে। ছেলে শায়খ মুখতার আর-রামিমাহ নিজ গ্রামে একটি কুরআন হিফজ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলে মরিয়ম নতুন করে উৎসাহ পান। তখন বয়স ষাটের ঘর পেরোলেও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে হিফজ শুরু করেন।

একজন নারী শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে তিনি নিয়মিত কুরআন শিখতেন। প্রতিদিন আসরের পর শিক্ষিকার কাছে পূর্বে মুখস্থ করা অংশ শুনাতেন এবং নতুন আয়াত গ্রহণ করতেন। এরপর মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাসেট রেকর্ডারে কুরআনের তেলাওয়াত বারবার শুনে আয়াতগুলো মনে গেঁথে নিতেন। ফজরের আগেও তিনি সময় বের করে কোরআন শুনতেন ও পুনরাবৃত্তি করতেন।

শায়খ ফারেস আব্বাদের তেলাওয়াত ছিল তার হিফজের অন্যতম সহায়ক। একটি অংশ মুখস্থ হয়ে গেলে সন্তানরা তার জন্য নতুন ক্যাসেট প্রস্তুত করে দিতেন। এভাবেই ধৈর্য, অধ্যবসায় ও নিরলস চর্চার মাধ্যমে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন।

নিরক্ষর হওয়ায় তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একই ধরনের আয়াত ও সূরাগুলোর পার্থক্য মনে রাখা। বিশেষ করে সূরা তাওবা ও সূরা রা'দ মুখস্থ করার সময় তাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু অবিরাম পুনরাবৃত্তি ও আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে তিনি সব বাধা অতিক্রম করেন।

দীর্ঘ এক দশকের সাধনার পর ২০১৬ সালে তিনি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। শেষ আয়াত তেলাওয়াতের মুহূর্তটি ছিল তার জীবনের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায়। আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়েন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।

মরিয়মের এ সাফল্য শুধু তার পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই অনুপ্রাণিত করেছে। তার ২১ সন্তান ও অসংখ্য নাতি-নাতনির মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু তাদের কাছেও সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—একজন নিরক্ষর নারী শুধুমাত্র শ্রবণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেছেন।

তায়েজ অঞ্চলের নিজস্ব উচ্চারণ বজায় রেখেও তিনি শুদ্ধ তাজবিদ ও মাখরাজ অনুসরণ করে কুরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হন, যা অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তার হিফজের দীর্ঘ যাত্রার একটি বড় অংশ কেটেছে ইয়েমেনের যুদ্ধ, অবরোধ ও নানা সংকটের সময়। গোলাগুলির শব্দ, বিদ্যুৎ সংকট ও কঠিন বাস্তবতাও তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি কোরআনের সঙ্গ ছাড়েননি। সূত্র: ইন্টারনেট

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ