বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ।। ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২ লাখ ৮৩ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার মাত্র ১৬ দিনে প্রবাসী আয় ১৭২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার ‘কিশোর গ্যাংয়ের ফেসবুক-টিকটক আইডি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে পুুলিশ’ হামের টিকায় গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বিশেষ ইমাম প্রশিক্ষণ এবার রাজশাহীতে কুরআন, কাবা ও ‘পাই’ (π): এক বিস্ময়কর সংখ্যার ইঙ্গিত দিরাই জামেয়ার মুহতামিম হলেন ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ ময়মনসিংহে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অতঃপর ডাকাতি কওমি মাদরাসার অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথ কোথায়

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২ লাখ ৮৩ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন রোহিঙ্গার মধ্যে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে 'পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি' হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে কবে নাগাদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা না গেলেও বলা যায় যে উপযুক্ত সময়ে, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত ছয় ধাপে মোট ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই করেছে মিয়ানমার। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে 'পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি' হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লিখিত প্রশ্নে শাহজাহান চৌধুরী জানতে চেয়েছেন, ২০২৪-২৫ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, প্রত্যাবাসন শুরুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা কী এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হওয়া নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর। যেহেতু রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা চলছে, তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জোরপূর্বক বা অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে আমাদের সরকার রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে এবং সে লক্ষ্যে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।'

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়, সেজন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ