নিজস্ব প্রতিবেদক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার, চাকরিচ্যুতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব দাবি জানান কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকী। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রহমতুল্লাহ বিন হাবিব।
মুফতী মানসুর আহমদ সাকী বলেন, দেশের লাখ লাখ তরুণ কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেন। তাঁদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনিয়মের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক চাকরিপ্রার্থী অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে ঢাকায় এসে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ নানা খাতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ও মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের চাকরিচ্যুতিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নিয়োগব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা আ হ ম আলাউদ্দীন ও অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস হাসান ও মাওলানা মুহাম্মাদ আল আমিন, সহকারী মহাসচিব মুহাম্মাদ মাহবুব আলম ও মাওলানা মুহাম্মাদ মোরশেদুল আলমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক কে এম শামীম আহমেদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইউসুফ আহমাদ মানসুর, দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, প্রকাশনা সম্পাদক মুফতি একেএম আব্দুর জাহের আরেফী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমাদ, প্রচার সম্পাদক শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ তালুকদারসহ বিভিন্ন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।
এসএইচ/