শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ।। ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৭ রমজান ১৪৪৭


‘শাপলার চেতনাকে অস্বীকারকারীরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অকার্যকর করতে চায়’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানার্থে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর রাহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের হোটেল সেন্ট্রাল ইন মিলনায়তনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংসদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা মাহফুজুল হক, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মূখপাত্র জনাব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, শহীদ পরিবারকে জাতীয়ভাবে যেভাবে সহযোগিতা করা দরকার ছিল সে ক্ষেত্রে অনেক গাফিলতি হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলো যে পরিমাণ কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন পার করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এজন্য একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে তিনি সকলের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগ ও ত্যাগের বুনিয়াদের উপর দাঁড়িয়েই চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ও চেতনা পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠন সম্ভব। তিনি বলেন, যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সাথে গাদ্দারি করতে চায়, তারা মূলত শাপলার চেতনাকেও অস্বীকার করতে চায়। শাপলার চেতনাকে অস্বীকারকারীরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অকার্যকর করতে তৎপর।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আপসহীন জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে বলেছিলেন। কিন্তু সে সময় বিএনপির একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়। তিনি দাবি করেন, সেই গোষ্ঠীটি এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে গুরুত্বহীন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে আয়োজিত গণভোটকেও তারা হাইকোর্ট দেখাতে চায়।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আল্লাহর পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে বড় মর্যাদা আর কিছু হতে পারে না। কুরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে জীবনদানকারীদের বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন এবং তাদের জন্য মহান প্রতিদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)এর মূখপাত্র জনাব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, শাপলা স্মৃতি সংসদ শহীদদের তথ্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শহীদ পরিবারগুলোকে সম্মানিত করা সম্ভব হয়েছিল। এজন্য তিনি শাপলা স্মৃতি সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কখনো মনে করবেন না যে আপনারা হারিয়েছেন। আপনারা হারাননি; বরং আপনারা এই জাতিকে দিয়েছেন। আপনাদের সন্তানরা জীবন দিয়ে এই দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে। এজন্য বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীন ও মাওলানা আল আবিদ শাকেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— হাবের ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ নূর মোহাম্মদ, শাপলা গার্ডিয়ান রস ফোরামের সদস্য মুফতি মামুনুর রশীদ কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিকী, হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর আমিরুল ইসলাম, শাপলা স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক বিএম সাবাব প্রমুখ।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ